আন্তর্জাতিক

নিজেকে ‘জনগণের রক্ষাকর্তা’ প্রমাণে মরিয়া ট্রাম্প, প্রত্যেক আমেরিকানকে দেবেন ২,০০০ ডলার

ট্রাম্প জানিয়েছেন, অন্যান্য দেশের উপর যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সেখান থেকে যে অর্থ আসবে, তা সরাসরি আমেরিকার জনগণের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

Truth Of Bengal: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার নিজেকে তুলে ধরতে চাইছেন আমজনতার ‘মসিহা’ হিসেবে। তিনি ঘোষণা করেছেন, ধনীদের বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সাধারণ নাগরিককে দেওয়া হবে ২,০০০ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, অন্যান্য দেশের উপর যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সেখান থেকে যে অর্থ আসবে, তা সরাসরি আমেরিকার জনগণের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তাঁর শুল্কযুদ্ধ। আমেরিকায় পণ্য রপ্তানি করে এমন প্রায় সব দেশের উপরই তিনি উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন। এমনকি ভারতের উপরও ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে ভারতের বস্ত্রসহ একাধিক রপ্তানি খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তবে শুধু বিদেশেই নয়, আমেরিকার ভেতরেও ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক শিল্পমহল ও বিরোধী দল তাঁর নীতির বিরোধিতা করছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আদালতেও মামলা গিয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ট্রাম্পের শুল্কনীতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতেই বড়সড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “যারা শুল্কনীতির বিরোধিতা করে তারা বোকা। আজ আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও সম্মানিত দেশ। আমাদের দেশে মুদ্রাস্ফীতি নেই, শেয়ার বাজারে রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে। দেশের ঋণও শোধ হতে শুরু করেছে। নতুন নতুন বিনিয়োগ আসছে, সর্বত্র কারখানা তৈরি হচ্ছে।”

ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর শুল্কনীতির ফলেই আমেরিকার অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে এবং উৎপাদন বেড়েছে। তাই অন্যান্য দেশ থেকে পাওয়া শুল্ক রাজস্বের অংশ জনগণের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি অন্য দেশগুলো আমেরিকার উপর শুল্ক চাপাতে পারে, তবে আমরাও কেন পারব না?”

তবে কবে থেকে এই অনুদান কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট তাঁর শুল্কনীতি বৈধ ঘোষণা করবে কি না, তাও এখনো জানা যায়নি। ফলে ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে আমেরিকার রাজনীতি ও অর্থনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

Related Articles