আন্তর্জাতিক

শান্তির মঞ্চে কেবল ঘনিষ্ঠ মহল? ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ ঘিরে বিতর্ক

দর্শকাসনের করতালিও ছিল বেশ ম্লান।

Truth Of Bengal: ডাভোসের সেই একই সভাকক্ষে, যেখানে একদিন আগেই বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁকে স্বাগত জানানো হল ‘বোর্ড অফ পিস’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিনিধিদের তালিকা ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং পরিবেশও ছিল অনেকটাই সংযত।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, ইন্দোনেশিয়ার প্রাক্তন সেনা আধিকারিক ও বর্তমান নেতা প্রাবোও সুবিয়ান্তো, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান-সহ কয়েকজন নেতা, যাঁদের অনেককেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘শক্ত হাতে শাসক’ হিসেবে দেখা হয়। উপস্থিতির সংখ্যা ছিল কুড়ির কম। দর্শকাসনের করতালিও ছিল বেশ ম্লান।

মঞ্চে ট্রাম্পের এক পাশে ছিলেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট, অন্য পাশে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী। এই দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে ট্রাম্প তাঁর কূটনৈতিক সাফল্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প উপস্থিতদের সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে তাঁরা তাঁর বন্ধু এবং তিনি এই দলটিকে পছন্দ করেন।

তবে এই অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় দেশগুলির উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। ভিক্টর অরবান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনও ইউরোপীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন না। উল্লেখ্য, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দীর্ঘদিনের সমালোচক অরবান কেবল ট্রাম্পের জন্যই ডাভোসে এসেছেন বলে জানা যায়।

বাস্তবে, বিশ্বের বড় অর্থনীতির অধিকাংশ প্রভাবশালী নেতা হয় ডাভোস ছেড়ে চলে গিয়েছেন, নয়তো এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। প্রকাশ্যে সমালোচনা না করলেও, অনেকেই ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় দূরত্ব বজায় রেখেছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি যোগ দিতে চাইলেও সংসদের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স অবস্থান বদলাতে পারে।

ইউরোপীয় অনেক নেতা ইউক্রেনের নিরাপত্তা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তা প্রত্যাশা করছিলেন। তবে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বিতর্কে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। এক ইউরোপীয় আধিকারিকের মতে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্কের কারণে অনেক দেশ এই বোর্ডে যোগ দিতে স্বচ্ছন্দ নয়।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, পুতিন যদি নিজের অর্থ ব্যবহার করে বোর্ডে স্থায়ী জায়গা নিশ্চিত করেন, তাতে তাঁর আপত্তি নেই। পাশাপাশি তিনি জানান, চাইলে তিনি মেয়াদ শেষের পরেও এই বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকতে পারেন, যদিও সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।

এই বোর্ডের নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। গাজা শান্তি পরিকল্পনার পর এই বোর্ডের ভাবনা উঠে আসে বলে জানা যায়। যদিও ডাভোসের এই অনুষ্ঠান আগের কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো বড় আকারের ছিল না।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তাঁর কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সমালোচনাও করেন। যদিও তিনি বলেন, এই বোর্ড জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করবে। তবে একই সঙ্গে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট অনুষ্ঠান শেষে ঘোষণা করেন, ‘বোর্ড অফ পিস’ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওয়াশিংটনে প্রথম বৈঠক হবে বলে জানান জ্যারেড কুশনার।

তবে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। বেলজিয়াম জানিয়েছে, তারা এই বোর্ডের সনদে সই করেনি, যদিও হোয়াইট হাউস তাদের সমর্থক দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

Related Articles