গণবিক্ষোভ দমনে কঠোরতম পথে ইরান প্রশাসন! ২৬ বছরের যুবককে ‘চূড়ান্ত দণ্ড’ দিল খামেনেই সরকার
সোলতানি গত ৮ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে।
Truth Of Bengal: ইরান সরকার গণবিক্ষোভ দমন করতে পুরনো পথে হাঁটছে। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে ফাঁসির দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদসংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বুধবারই ওই ফাঁসির সাজা কার্যকর হওয়ার কথা। ফাঁসির আসামী যুবকের নাম এরফান সোলতানি। তিনি তেহরান সংলগ্ন মফস্সল এলাকার বাসিন্দা।
সোলতানি গত ৮ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে। গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) তার পরিবারকে মৃত্যুদণ্ডের খবর জানানো হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলি অভিযোগ করেছে, সোলতানির গ্রেফতারের পর তার আইনি অধিকার পুরোপুরি সীমিত করা হয়েছে। তিনি কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিকার দাবি করতে পারেননি এবং মামলার খুঁটিনাটি সম্পর্কে তার পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি।
ডিসেম্বরের শেষে শুরু হওয়া বিক্ষোভটি প্রাথমিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হলেও ধীরে ধীরে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনে রূপ নেয়। তেহরান ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবাদ দমন করতে ইরান প্রশাসন কঠোর হয়েছে। নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ রোগীদের কারণে হাসপাতালগুলো ভরে গেছে।
এর আগে ইরান বিরুদ্ধমত দমন করতে প্রতিবাদকারীদের গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। এবার সোলতানির ফাঁসির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল বাকি বিক্ষোভকারীদের মনে ভয়ের সঞ্চার করা। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার ঘোষণা করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। তাতেও সোলতানির ফাঁসির সাজা কার্যকর রাখা হয়েছে।






