মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা ট্রাম্পের, পিছিয়ে গেল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য বৈঠক
আমেরিকার ওয়াশিংটনে এই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল যেখানে দুই দেশের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীদের বাণিজ্য চুক্তির আইনি পাঠ চূড়ান্ত করার লক্ষ্য ছিল।
Truth Of Bengal: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে সোমবারের পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি আপাতত স্থগিত হয়ে গিয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই এবং বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে স্থির করেছেন যে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরেই পরবর্তী আলোচনার দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। আমেরিকার ওয়াশিংটনে এই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল যেখানে দুই দেশের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীদের বাণিজ্য চুক্তির আইনি পাঠ চূড়ান্ত করার লক্ষ্য ছিল। তবে শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ের পর তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার জেরেই এই আলোচনা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। আদালত জানিয়েছে, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে ট্রাম্প যে ঢালাও আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। ৬-৩ বিচারপতির রায়ে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন সংবিধানে শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট নিজের একক সিদ্ধান্তে এই ধরনের ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ প্রয়োগ করে অন্য দেশের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের গত বছরের নেওয়া অনেক বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প পাল্টা চালে নতুন ‘সাময়িক শুল্ক’ ঘোষণা করেছেন। প্রথমে ১০ শতাংশ হারের কথা বললেও পরে তিনি তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা জানিয়েছেন, যা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারার আওতায় আনা হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী, এই ধরনের পদক্ষেপ কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের বেশি কার্যকর রাখা সম্ভব নয়। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা মার্কিন আদালতের রায় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর কতটা পড়বে, তা বিচার বিশ্লেষণ করার পরেই পুনরায় আলোচনায় বসবে দুই দেশ।



