ঐতিহ্যের চাকা পৌঁছে গিয়েছে ১৫৩ বছরে, ট্রামওয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসে আবেগ ও অঙ্গীকার
২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৩—ঐতিহাসিক সেই দিনেই শিয়ালদহ থেকে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত ৩.৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলকাতায় প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম চলেছিল।
Truth Of Bengal: তিলোত্তমার ট্রামের ১৫৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসে সেই ইতিহাস ও আবেগকেই নতুন করে স্মরণ করল শহর। Calcutta Tramways Company-এর উদ্যোগে বিশেষ স্মারক কর্মসূচিতে উঠে এল অতীতের গৌরব, বর্তমানের বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের অঙ্গীকার—ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে পরিবেশবান্ধব নগর পরিবহন গড়ে তোলার প্রত্যয়।
২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৩—ঐতিহাসিক সেই দিনেই শিয়ালদহ থেকে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত ৩.৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলকাতায় প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম চলেছিল। সেই সূচনা থেকেই শহরের গণপরিবহনে নতুন অধ্যায়ের জন্ম। যদিও একই বছরের ২০ নভেম্বর পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়, ১৮৮০ সালের নভেম্বরে শিয়ালদহ–বউবাজার–ডালহৌসি–আর্মেনিয়ান ঘাট রুটে মিটার গেজ লাইনে ঘোড়ায় টানা ট্রামের মাধ্যমে পুনরায় চালু হয় পরিষেবা। পরবর্তীকালে বিদ্যুৎচালিত ট্রাম যুক্ত হয়ে কলকাতার পরিবহনে স্থায়ী আসন পায় এই ঐতিহ্যবাহী যান।
১৫৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসে শহর যেন ফিরে গেল সেই অতীতের আবহে। আয়োজক Calcutta Tramways Company-এর উদ্যোগে বিশেষ স্মারক ট্রামযাত্রার আয়োজন করা হয়। যাত্রাপথ ছিল গড়িয়াহাট ট্রাম ডিপো ➝ এসপ্ল্যানেড ট্রাম টার্মিনাস ➝ শ্যামবাজার ট্রাম টার্মিনাস।
সকালে গড়িয়াহাট ডিপোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ট্রামের প্রতীকী ফিতা কেটে সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। পুরনো দিনের ঘণ্টাধ্বনি আর শিঙার শব্দে শুরু হয় যাত্রা। সুসজ্জিত ট্রামগাড়ির ভেতরে ছিল পুরনো আলোকচিত্র, নথি ও কলকাতার ট্রাম ইতিহাসের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী। ট্রাম গবেষক দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, “কলকাতার ট্রাম শুধু পরিবহন নয়, এটি টেকসই নগর উন্নয়নের প্রতীক। বিদ্যুৎচালিত ট্রাম দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের বহু শহর আজ নতুন করে ট্রামের দিকে ঝুঁকছে—আমাদেরও ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।”
এসপ্ল্যানেডে পথচারী ও সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ মোবাইলে ছবি তুলেছেন, কেউ আবার বয়স্কদের কাছ থেকে শুনেছেন ঘোড়ায় টানা ট্রামের গল্প। পরিবেশবান্ধব এই ট্রামকে বাঁচিয়ে রাখার আর্জি জানান ট্রাম্পপ্রেমীরা।
কলকাতার রাস্তায় ধীর গতির সেই পরিচিত ঝংকার আজও শহরের নস্টালজিয়ার অংশ। ১৫৩ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বহু পরিবর্তন এসেছে, তবু ট্রামের প্রতি আবেগ অটুট। প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে বার্তা একটাই—ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে আধুনিক কলকাতার ভবিষ্যৎ নির্মাণ।


