দেশ

‘প্রেম কি অপরাধ?’, প্রকৃত ভালবাসা ও পকসো অপরাধের পার্থক্য করার আহ্বান সুপ্রিম কোর্টের

বেঞ্চের মতে, যখন দুজন কিশোর-কিশোরী পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কে জড়ায় এবং বিয়ে করতে চায়, তখন সেটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা অন্যায্য হতে পারে।

Truth Of Bengal: ধর্ষণের মতো নিন্দনীয় এবং কিশোর কিশোরিদের মধ্যে প্রকৃত প্রেমের একটি স্পষ্ট বিভাজন টানা অত্যন্ত জরুরি, একটি মামলার শুনানির সময় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

বিচারপতি বি ভি নাগারত্না এবং আর মহাদেবনের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানান, আজকের যুগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিবেশে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পারস্পরিক অনুভূতি তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

বেঞ্চ জানায় “এখন তারা একে অপরের প্রতি অনুভূতি তৈরি করছে। আপনি কি বলবেন ভালোবাসা অপরাধ? আমাদের অবশ্যই ধর্ষণ ইত্যাদি অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে এর পার্থক্য রাখতে হবে”।

বেঞ্চ (Supreme Court) আরও যোগ করে, “যখন প্রকৃত রোম্যান্টিক সম্পর্কের ঘটনা ঘটে, যেখানে তারা একে অপরকে পছন্দ করে এবং বিয়ে করতে চায়… তখন এই ধরনের ঘটনাগুলিকে অপরাধমূলক ঘটনার মতো দেখা উচিত নয়।”

এই পর্যবেক্ষণ আসে একটি মামলার শুনানির সময়, যেখানে প্রশ্ন তোলা হয়, শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইন (POCSO)-এর অধীনে সম্মতির বয়স যা বর্তমানে ১৮ বছর, তা ১৬ বছরে নামিয়ে আনা উচিত কি না।

প্রেম বনাম অপরাধমূলক অভিযোগ

বেঞ্চের মতে, যখন দুজন কিশোর-কিশোরী পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কে জড়ায় এবং বিয়ে করতে চায়, তখন সেটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা অন্যায্য হতে পারে। বিচারপতি নাগারত্না বলেন, “প্রকৃত ভালোবাসাকে অপরাধের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলবেন না। আমাদের সমাজের বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে।”

কোর্ট (Supreme Court) আরও জানায়, তরুণ যুগলরা প্রায়ই সমস্যার মুখে পড়ে, বিশেষত যখন মেয়ের বাবা-মা POCSO আইনে অভিযোগ দায়ের করেন, যার ফলে ছেলেটিকে জেলে যেতে হয়। বেঞ্চ উল্লেখ করে, “এটাই কঠিন বাস্তবতা। অনেক ক্ষেত্রেই পালিয়ে বিয়ের ঘটনা ঢাকতে এই ধরনের অভিযোগ আনা হয়।”

আবেদনকারী সংগঠনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এইচ এস ফুলকা আদালতের কাছে এই পরিস্থিতিতে কিছু সুরক্ষার ব্যবস্থা বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। বিচারপতিরা বলেন, এটি পুলিশের দায়িত্ব যে তারা নির্ধারণ করবে ঘটনাটি অপহরণ, মানবপাচার নাকি পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ক।

ফুলকা আদালতকে আরও জানান, আরেকটি বেঞ্চ ইতিমধ্যেই সম্মতির বয়স সংক্রান্ত বিস্তৃত বিষয়ে শুনানি করছে। বিষয়টি এখন ২৬ আগস্টের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে, যেখানে ফুলকা পূর্বে শীর্ষ আদালতের দেওয়া রায়গুলো নথিভুক্ত করবেন।

সম্মতির বয়স নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান

কেন্দ্রীয় সরকার বরাবরই সম্মতির ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর রাখার পক্ষে, একে তারা “সচেতনভাবে বিবেচিত ও সুসংহত নীতি” বলে উল্লেখ করেছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের শোষণ থেকে রক্ষা করার জন্য তৈরি।

সম্পর্কিত এক মামলায় তাদের বক্তব্যে কেন্দ্র জানায়, সম্মতির বয়স কমানো বা কৈশোরের রোম্যান্টিক সম্পর্কের জন্য ব্যতিক্রম তৈরি করা আইনত টেকসই হবে না, বরং এতে অপব্যবহারের আশঙ্কাজনক ফাঁকফোকর তৈরি হবে।

Related Articles