দেশ

গার্লস হোস্টেলে ব্যবসা! ১৭ বছরের কিশোরীর দর উঠেছিল ২৫ হাজার, তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য

এই পৈশাচিক কারবারে হোস্টেল ওয়ার্ডেনদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

Truth Of Bengal: বিহারের পাটনায় গার্লস হোস্টেলকে কেন্দ্র করে চলা নারী পাচার ও যৌন হেনস্থার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। তদন্তকারীদের দাবি, হোস্টেলের ছাত্রীদের রীতিমতো পণ্যের মতো বিবেচনা করা হতো এবং তাদের বয়স ও শারীরিক গঠনের ওপর ভিত্তি করে ‘রেট’ বা মূল্য নির্ধারণ করত পাচারচক্রের এজেন্টরা। এমনকি ১৭ বছর বয়সী এক নাবিকাকে নিয়ে এজেন্টদের কথোপকথনের রেকর্ডও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের এজেন্টরা অত্যন্ত পেশাদার ঢঙে ছাত্রীদের দরদাম করত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর জন্য ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ‘বয়স এবং শারীরিক গঠন অনুযায়ী দাম’—এই কুরুচিকর নীতিতে চলত গোটা চক্রটি। তদন্তের সাথে যুক্ত একটি সূত্রের দাবি, এজেন্টরা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলত, “মেয়েকে আগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, টাকা পরে দিলেও চলবে।”

তদন্তে জানা গিয়েছে, হোস্টেলের সাথে যুক্ত কিছু সরবরাহকারী বা মিডলম্যান এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করত। দিনের বেলায় কাজের অজুহাতে ছাত্রীদের হোস্টেল থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনা হতো যাতে কারো মনে সন্দেহ না জাগে। মেয়েটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পরেই কেবল টাকা সংগ্রহ করত এজেন্টরা।

এই পৈশাচিক কারবারে হোস্টেল ওয়ার্ডেনদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক তদন্ত বলছে, সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে ওয়ার্ডেনরা এজেন্ট ও সরবরাহকারীদের হোস্টেলে অবাধ যাতায়াতের অনুমতি দিতেন। হোস্টেলগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা, ভিজিটর রেজিস্টার বা পর্যাপ্ত মহিলা নিরাপত্তা কর্মীর অভাব এই অপরাধচক্রকে আরও সুবিধা করে দিয়েছিল।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিহারজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ছাত্র সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ডিজিটাল চ্যাট, অডিও রেকর্ডিং এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখছে। যদিও এখনও এই নির্দিষ্ট লিঙ্কে কোনো গ্রেপ্তারের খবর মেলেনি, তবে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

Related Articles