আন্তর্জাতিকদেশ

দিল্লি বিস্ফোরণের পর নেতানিয়াহুর ভারত সফর স্থগিত

তবে দিল্লি বিস্ফোরণের পর তাঁর সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Truth Of Bengal: নয়াদিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। এ বছরের শেষ দিকে ভারতের সফর করার কথা ছিল ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর। তবে দিল্লি বিস্ফোরণের পর তাঁর সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে ঘটেছে ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যাতে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। এটি গত দশকের মধ্যে দিল্লির সবচেয়ে গুরুতর হামলার মধ্যে একটি। হামলার পরই ইজরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু করে।

ইজরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নেতানিয়াহু চলতি বছরের মধ্যে আর ভারত সফর করবেন না। নতুন সফরের তারিখ আগামী বছরে নির্ধারণ করা হবে। সূত্রের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, মোদীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য যে সফরসূচি তৈরি করা হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এর আগে বছরজুড়ে তিন দফায় ভারত সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল নেতানিয়াহুর জন্য। এছাড়া, নির্বাচনী সময়সূচির কারণে পূর্বে তিনবারও সফর স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।

ইজরায়েলে নেতানিয়াহুর দল এই সফরকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেছিল। জুলাই মাসে প্রচারণা শিবিরে প্রধানমন্ত্রী মোদী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ছবি যুক্ত ব্যানার ব্যবহার করে বিশ্ব নেতৃত্বের আলাদা স্থান দখল করার বার্তা দেওয়া হয়েছিল।

দুই দেশের কূটনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০১৭ সালে তেল আভিভ সফর করেছিলেন, আর নেতানিয়াহু ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভারত সফর করেন। সেই কারণে নেতানিয়াহুর সফর স্থগিত হওয়া ইজরায়েল-ভারত সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বিস্ফোরণটি লালকেল্লার কাছে একটি আই২০ গাড়িতে ঘটানো হয়। গাড়িতে বসেছিলেন চিকিৎসক ও আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী উমর মহম্মদ। তাঁর সহযোগী চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল এখন এনআইএ-এর হেফাজতে আছেন। এনআইএ সূত্রের খবর, জেরায় শাকিল জানিয়েছেন, তারা গত দুই বছর ধরে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিলেন।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ ঘটানো। এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল জইশের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গিগোষ্ঠী। ধৃত চিকিৎসকরা জানিয়েছে, এই ছক প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০২৩ সালে। বর্তমানে দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্ত চলছে।

Related Articles