১০ বছর ধরে শিশু নির্যাতনের সাজা ফাঁসি, ঐতিহাসিক রায় উত্তরপ্রদেশে
২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশক ধরে বান্দা ও চিত্রকূট জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে।
Truth Of Bengal: উত্তরপ্রদেশের বান্দায় শিশু নির্যাতনের এক পৈশাচিক ও রোমহর্ষক মামলায় দোষী সাব্যস্ত দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিল আদালত। বিশেষ পকসো (POCSO) আদালতের বিচারক অভিযুক্ত রামভবন এবং তাঁর স্ত্রী দুর্গাবতীর বিরুদ্ধে ওঠা ৩৩ জন শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। নির্যাতিত শিশুদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর, যা অপরাধের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে এক দীর্ঘমেয়াদী নৃশংসতার ইতিহাস। ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশক ধরে বান্দা ও চিত্রকূট জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। পেশায় সেচ দফতরের নিম্নপদস্থ প্রকৌশলী রামভবন শিশুদের ফাঁদে ফেলতে ডিজিটাল মাধ্যম ও আর্থিক প্রলোভনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। কখনও অনলাইনে খেলাধুলার সুযোগ, আবার কখনও টাকা বা দামী উপহারের টোপ দিয়ে অসহায় শিশুদের নিজের ডেরায় নিয়ে আসত এই দম্পতি।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা রিপোর্টে নির্যাতিত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার এক বীভৎস ছবি ফুটে উঠেছে। অনেক শিশুর শরীরে ও গোপনাঙ্গে এমন মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার জন্য তাদের দীর্ঘকাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। ফরেনসিক রিপোর্ট ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিশুদের ওপর কেবল শারীরিক নয়, চরম মানসিক অত্যাচারও চালানো হয়েছে। ২০২০ সালের অক্টোবরে মামলা শুরু হওয়ার পর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার্জশিট জমা পড়েছিল, যেখানে প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ ছিল।
আদালত এই মামলাটিকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ (Rarest of Rare) পর্যায়ভুক্ত করে জানিয়েছে যে, অপরাধের প্রকৃতি এতটাই নিষ্ঠুর যে দোষীদের সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। নৈতিক অবক্ষয়ের এই চরম নিদর্শন বিচার করে আদালত রামভবন ও দুর্গাবতীকে সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ ফাঁসির আদেশ দেয়। পাশাপাশি, আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে রাজ্য সরকারকে প্রতিটি নির্যাতিত শিশুকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং দম্পতির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত অর্থও শিশুদের পুনর্বাসনে ব্যয় করতে হবে।






