ডিজিটাল বাণিজ্যের আড়ালে কি বিপন্ন দেশের গোপনীয়তা? কেন্দ্রকে তোপ দেগে বিস্ফোরক রাহুল
জটিল শব্দ ও নীতির আড়ালে সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে।
Truth of Bengal: দেশের তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব— এই তিন ইস্যুকে সামনে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ব প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হচ্ছে না। বরং জটিল শব্দ ও নীতির আড়ালে সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। রাহুল গান্ধি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বিদেশি শক্তির সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্যের চুক্তি হলে তার প্রভাব দেশের সংবেদনশীল তথ্যভাণ্ডারের উপর কতটা পড়বে। তিনি জানতে চান, স্বাস্থ্য, আর্থিক তথ্য, সরকারি ডেটাবেস— এসব কি দেশের ভেতরেই সুরক্ষিত থাকবে, নাকি বিদেশি সংস্থাগুলির হাতে তার নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে। তাঁর আশঙ্কা, ডেটা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে বিদেশি সংস্থাগুলি সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রযুক্তি উন্নত করবে, অথচ ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সংসদে তোলা প্রশ্নেও তিনি জানতে চান, ডিজিটাল বাণিজ্যের বাধা কমানোর প্রতিশ্রুতি কীভাবে দেশের ডেটা সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি খতিয়ে দেখতে চান, এই ধরনের চুক্তির ফলে দেশের নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা বা নীতিগত স্বাধীনতা কোনওভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে কি না। বিশেষ করে আর্থিক ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল পরিচয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত তথ্য কতটা নিরাপদ— তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। রাহুল গান্ধির দাবি, এই বিষয়ে সরকারের বক্তব্যে নির্দিষ্টতার অভাব রয়েছে। ‘কাঠামো’, ‘ভারসাম্য’, ‘স্বায়ত্তশাসন’— এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার নয়। তাঁর মতে, দেশের নাগরিকদের অধিকার রয়েছে জানার, তাদের তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তার ওপর কার নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এবং তা দেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, ডেটা পরিচালনায় ভারতের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। তবে এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন রাহুল গান্ধি। তাঁর মতে, শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন স্পষ্ট নীতি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা। বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে ডেটাই সবচেয়ে বড় সম্পদ, তাই এই ইস্যুতে সামান্য অস্পষ্টতাও ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। ফলে ডেটা সুরক্ষা ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিয়ে কেন্দ্র-রাজনীতির টানাপোড়েন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে।






