জোটসঙ্গীদের তোষণ আর বিরোধীদের বঞ্চনা! সংসদে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন অভিষেক
অভিষেকের কথায়, সংবিধান সমবন্টনের প্রতিশ্রুতির কথা বলে। কিন্তু কেন্দ্রের এই সরকার তা মেনে চলে না।
Truth Of Bengal: বাজেট নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দাগলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ প্রসঙ্গে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘অর্থমন্ত্রী মনে হয় গরিব মানুষদের ক্রয় ক্ষমতা পরীক্ষা করছেন’। অভিষেক বলেন, ‘এবারের বাজেট একেবারেই অন্তঃসারশূন্য। ৮৫ মিনিট ধরে বক্তব্য রেখেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মল সীতারমণ, সেখানে বাংলার নাম একবারের জন্য উঠে আসেনি। কিন্তু এই সরকার বেছে বেছে নিজেদের জোটসঙ্গীদের সাহায্য করছে আর বিরোধীদের ভাতে মারছে। এটা ‘কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজম’ নয়, বরং এটা একটা ‘সাবস্ক্রিপশন বেসড ফেডারেলিজম’। অভিষেকের কথায়, সংবিধান সমবন্টনের প্রতিশ্রুতির কথা বলে। কিন্তু কেন্দ্রের এই সরকার তা মেনে চলে না।
ট্যাক্স নিয়ে কেন্দ্রকে এদিন কড়া আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, এই দেশে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি ব্যক্তিকে ট্যাক্সের ফাঁদে জর্জরিত করে রাখা হয়। তিনি বলেন, ‘শিশুর জন্মের পরে তার ডায়াপারের ট্যাক্স, পড়াশোনা শুরু হওয়ার পরে শিক্ষা, বই, নোটবুক, পেন, পেন্সিল-সবকিছুতে ট্যাক্স, তিনি উপার্জন শুরু করলে এর উপরে ট্যাক্স, টাকা বাঁচালে এর উপরে ট্যাক্স, খরচ করলে তার উপরেও বসানো হয় ট্যাক্স, কাজে গেলে পেট্রল-ডিজেলে ট্যাক্স, অসুস্থ হলে ডাক্তার, ওষুধের উপরে ট্যাক্স, বৃদ্ধ হলে পেনশন, চিকিৎসায় ট্যাক্স, তাঁর মৃত্যুর পরে শোকসভায় ধূপ জ্বালানোর জন্যও পরিবারকে ট্যাক্স দিতে হয়।’ ট্যাক্সের গোলকধাঁধায় মানুষ জর্জরিত বলে উঠে আসে অভিষেকের কথায়।
কেন্দ্রীয় বাজেটে যেভাবে দেশবাসীর ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে তাকে ট্রিপল ট্যাক্স বলে দাবি করেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, সাধারণ সৎ করদাতার উপর তিন ধরনের পরোক্ষ কর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম কর অবশ্যই আয়কর। বেতনভোগীরা বেতন পাওয়ার আগেই আয়কর দেন। তা থেকে কোনও মুক্তি, আলোচনা বা মুদ্রাস্ফীতির বাজারেও সুরাহার সুযোগ নেই। এই পাশাপাশি দেশবাসীর ওপর থেকে বোঝা অর্থমন্ত্রী কমাতে পারেননি, তাকেও পরোক্ষ কর বলে জানান তিনি। অভিষেকের হিসেবে তিন নম্বর কর হল মূল্যবৃদ্ধি। তাঁর বক্তব্য, এই কর অনুমতি ছাড়াই ঢুকে পড়ে মানুষের জীবনে।
বাংলার টাকা আটকে রাখা নিয়ে এদিন সংসদে সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আমি সেই ভারতের নাগরিক, যে ভারত বিপ্লবীদের জন্ম দিয়েছে, রক্তে সাহসের সঞ্চার করেছে। আবার সেই ভারতেই ‘জয় বাংলা’ বলা, ‘আমার সোনার বাংলা’ গাওয়া অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমি সেই ভারতের নাগরিক, যেখানে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ বলে বুক চাপড়ানো হয়, আবার সেই ভারতেই পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য বকেয়া ১.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়।’ প্রত্যেক রাজ্যের সমানাধিকারের যে বিধান রয়েছে সংবিধানে, তা আটকানো হয়েছে। এটা শাসনকার্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নয়, এটা একটা বার্তা যে, লাইনে না এলে মূল্য চোকাতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এই মুহূর্তে ভারতের দু’টি চেহারা, একটি ভারতকে অন্য ভারতের সামনে মাথানত করতে বলা হচ্ছে। এটাই সত্য।’
বীর দাসের কবিতা দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন অভিষেক। নানা ইস্যুতে যে ভাবে এদিন কেন্দ্রের তুলোধনা করেন অভিষেক, তা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের।






