আলিঙ্গনেই জব্দ দুশ্চিন্তা, অবসাদ, শারীরিক যন্ত্রণা, কী তথ্য উঠে এল গবেষণায়
Seizure anxiety, depression, physical pain, what information emerged in the study

The Truth Of Bengal, Mou Basu : ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের অন্যতম মাধ্যমহল আলিঙ্গন। আমরা যখন খুব উত্তেজিত, আবেগপ্রবণ হয়ে উঠি, দুঃখে অথবা খুশিতে আমরা প্রিয়জনকে পরম আশ্লেষে জড়িয়ে ধরি। আলিঙ্গন বা ইংরেজিতে যাকে বলে Hugging আমাদের কমফোর্ট দেয়। আমাদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে চাঙ্গা ও স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে আলিঙ্গন।
প্রিয়জনকে আমাদের আলতো ছোঁয়া ও আলিঙ্গনই বুঝিয়ে দেয় আমরা তাঁকে কতটা ভালোবাসি। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক স্পর্শ বিশেষ করে আলিঙ্গন আমাদের শরীর ও মনের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা কমায় আলিঙ্গন। জার্মানির ও নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা ১০ হাজার মানুষের ওপর এই গবেষণা চালান। চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক জার্নাল Nature Human behaviour এ প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণাপত্র।
গবেষণায় দেখা গেছে আলিঙ্গন হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
যদি আপনার প্রিয়জন মানসিক ও শারীরিক কষ্টের মধ্যে থাকেন তাঁকে একবার জড়িয়ে ধরুন। স্পর্শের মাধ্যমে আপনার এই টাচ তাঁর সমস্ত দুশ্চিন্তা কমিয়ে দেবে। আমাদের মস্তিষ্ক থেকে নিসৃত অক্সিটোসিন হরমোনকে কাডল হরমোন বা লাভ হরমোন বলে। আমরা যখন কারোকে জড়িয়ে ধরি বা স্পর্শ করি তখন অক্সিটোসিন হরমোনের মাত্রা বাড়ে।এই হরমোন দুশ্চিন্তা কমায় সুখানুভূতি বাড়ায়। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হরমোন রক্তচাপ কমায়। স্ট্রেস হরমোন নোরপাইনফ্রিনের মাত্রা কমায়। দুশ্চিন্তার পাশাপাশি আলিঙ্গন ভয়, বিশেষ করে মৃত্যু ভয়, শারীরিক যন্ত্রণা কমায়। একাকীত্ব, ক্রোধ, রাগ, বিভিন্ন রকমের নেতিবাচক চিন্তা কমিয়ে ফিলগুড হরমোনের নিঃসারণ বাড়ায় আলিঙ্গন। ডোপামিন হল প্লেজার হরমোন যা আমাদের মানসিক ভাবে চাঙ্গা রাখে। অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট সেরোটোনিন হরমোন একাকীত্ব ও দুশ্চিন্তা কমিয়ে মুড ভালো রাখে। লাভ হরমোন অক্সিটোসিন ওজন কমাতে সাহায্য করে, রক্তচাপ কমায়, হার্ট ভালো রাখে। আমরা যখন কখনো কারোকে জড়াই তখন অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণ হয়। এই হরমোন আমাদেরকে মানসিক ভাবে সুখি অনুভব করতে সাহায্য করে। এই হরমোন সামাজিক বন্ধন বাড়াতেও সাহায্য করে। কেন না, নিউরো-পেপটাইড অক্সিটোসিন হরমোন আমাদের মধ্যে সততা, অনুরাগ বাড়িয়ে তোলে। প্রেমের সম্পর্ক মজবুত করতে যা একান্তই প্রয়োজন।গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন আলিঙ্গন মানুষের অসুস্থতায় পড়া আটকায়।
আলিঙ্গন আমাদের নিরাপদ বোধ করায়। ১০ সেকেন্ডের আলিঙ্গন অবসাদ কমায়, ক্লান্তি দূর করে। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। আমাদের প্রিয়জনেরা আমাদের জড়িয়ে ধরলে আমরা আত্মবিশ্বাসী ও খুশি হই। নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়ে। মনোযোগী হই।কথা বলা ও ফেশিয়াল এক্সপ্রেশন ছাড়াও স্পর্শের মাধ্যমেও আমরা কমিউনিকেট করি।আলিঙ্গন আমাদেরশরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। জড়িয়ে ধরলে থাইমাস গ্ল্যান্ডস্টিমিউলেট হয়। এই গ্ল্যান্ড রক্তে শ্বেতকণিকার মাত্রা বাড়ায়। রোগমুক্ত রাখে।
প্রিয়জনকে আলিঙ্গন শুধু আপনার মনকেই নয় শরীরকেও ভালো রাখতে সাহায্য করে। যখন কেউ আপনাকে জড়ায় তখন ত্বকের মধ্যে থাকা পাসিনিয়ান কর্পাসেলস নামক প্রেসার রিসেপ্টর মস্তিষ্কে সংকেত পাঠিয়ে রক্তচাপ কমিয়ে দেয় যা হার্টের ভালো থাকার পক্ষে খুবই জরুরি। প্রিয়জনের ছোট্ট ছোঁয়া হার্টের গতিবেগ বাড়িয়ে তোলে অন্তত ১০ বিট।
আমেরিকার ওহিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে একাকীত্ব বাড়তে থাকে। যা মানসিক উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। প্রিয়জনের আলিঙ্গন একাকীত্ব কমিয়ে দিয়ে আপনাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তুলবে।
কর্টিসল হরমোন মানসিক উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। তাই যত বেশি আমরা জড়িয়ে ধরি তত কমে যায় কর্টিসল হরমোনের পরিমাণ। মানসিক ভাবে শান্ত থাকতে সাহায্য করে ছোট্ট আলিঙ্গন।






