রাজ্যের খবর

পর্যটনে বড় বদল! রাজ্যে চালু নতুন হোমস্টে পোর্টাল, এবার অনলাইনেই রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ

শুধু তাই নয়, সরকারি নিয়ম মেনে যেসব হোমস্টে রেজিস্ট্রেশন করাবে, একমাত্র তারাই নিজেদের পরিষেবার ক্ষেত্রে ‘হোমস্টে’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে

Truth of Bengal: রাজ্যের পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। চালু করা হল নতুন অনলাইন হোমস্টে পোর্টাল। এর মাধ্যমে এবার বাড়িতে বসেই নিজেদের হোমস্টে নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন মালিকরা। শুধু তাই নয়, সরকারি নিয়ম মেনে যেসব হোমস্টে রেজিস্ট্রেশন করাবে, একমাত্র তারাই নিজেদের পরিষেবার ক্ষেত্রে ‘হোমস্টে’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে উত্তরবঙ্গের পর্যটন মহল। তবে শুধু রেজিস্ট্রেশন নয়, হোমস্টে মালিকদের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করারও দাবি উঠেছে।

রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। সেই সঙ্গে তাল মেলাতে পর্যটন ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যেই রাজ্যে একটি প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যভাণ্ডার তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নতুন অনলাইন পোর্টালটির উদ্বোধন করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই হোমস্টেগুলিকে সরকারি নিয়মের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছিল উত্তরবঙ্গের পর্যটন সংস্থাগুলি। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে হোমস্টে পর্যটনের জনপ্রিয়তা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পর্যটন সংস্থাগুলির দাবি, গত ৩০ বছরে উত্তরবঙ্গের এই চার জেলায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি হোমস্টে তৈরি হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে অনেকগুলিই এখনও সরকারি নথিভুক্তির বাইরে।

ফলে কোথায় কী ধরনের পরিকাঠামো রয়েছে, পর্যটকদের জন্য কী পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে কিংবা নিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা উপযুক্ত, সে সম্পর্কে পর্যটন দপ্তরের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকছে না। কোনও হোমস্টেতে দুর্ঘটনা ঘটলে কিংবা পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ উঠলে তখনই বিষয়টি সামনে আসে। এই পরিস্থিতি এড়াতে সমস্ত হোমস্টেকে সরকারি নথিভুক্তির আওতায় আনা এবং মালিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। পর্যটন সংস্থা হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, হোমস্টেগুলিকে বিধিবদ্ধ করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার কথা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন। রাজ্য সরকার সেই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শুরু করেছে। এবার জেলাভিত্তিক কয়েকটি পর্যায়ে হোমস্টে মালিকদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা জরুরি। কারণ, পর্যটকদের কীভাবে পরিষেবা দিতে হবে, অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী কী নিয়ম মানতে হবে, সে সম্পর্কে অনেক মালিকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই।

পর্যটন দপ্তর সূত্রে খবর, নতুন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করতে হলে প্রথমে হোমস্টে মালিককে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ ইন করতে হবে। এরপর মোবাইলে আসা ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করতে হবে। পাশাপাশি হোমস্টের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান বা লোকেশন ম্যাপের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে।এই ব্যবস্থার ফলে পর্যটকরাও অনেক সুবিধা পাবেন। অনলাইনে নির্দিষ্ট হোমস্টের অবস্থান, আশপাশের এলাকা এবং সেটি রাজ্য সরকারের অনুমোদিত কি না, তা সহজেই জানতে পারবেন। ফলে পছন্দের থাকার জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভুয়ো বা অননুমোদিত হোমস্টে চিহ্নিত করাও সহজ হবে। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, রাজ্যে বর্তমানে মোট ৫ হাজার ৪৭৯টি হোমস্টে রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরকারি নিয়ম মেনে নথিভুক্ত হলেও বহু হোমস্টে এখনও বিধিবদ্ধ নয়। নতুন পোর্টালের মাধ্যমে সেই সমস্ত হোমস্টের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারি অনুমোদন ছাড়া কেউ যাতে ‘হোমস্টে’ পরিচয়ে ব্যবসা চালাতে না পারেন, সেই ব্যবস্থাও কার্যকর হবে।