রাজ্যের খবর

“মমতা তৃণমূলেই আছি…!”, ঋতব্রতর হাত ছেড়ে কালীঘাটে আরও এক বিধায়ক, কমিশনকে সোজা চিঠি

"ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল!" কাসেম, তৌসিফুরের পর ফের ফাটল ঋতব্রত শিবিরে, কুণালের ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ

Truth of Bengal: রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না, এই প্রচলিত প্রবাদটিকে ফের একবার প্রমাণ করলেন মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ। রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মূল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনকে (EC) একটি আনুষ্ঠানিক ইমেল পাঠিয়ে তিনি নিজের অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

অথচ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের চরম ভরাডুবির পর এই শামিম আহমেদই কিন্তু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হয়ে উঠেছিলেন। তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার সমর্থনে যেসব বিধায়কদের সই ছিল, সেই তালিকায় শামিমের স্বাক্ষরও ছিল। কিন্তু সমস্ত হিসাব গোলমাল করে দিয়ে তিনি ফের ফিরে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াতলে।

নির্বাচন কমিশনকে কড়া ইমেল বিধায়কের

বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশ্যে আসে এক বড় ছবি, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শামিম আহমেদকে। তার ঠিক পর মুহূর্তেই নির্বাচন কমিশনকে ইমেল মারফত মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ জানিয়ে দেন, বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের তরফে যদি তাঁর নাম ব্যবহার করে কোনও হলফনামা জমা দেওয়া হয়, সেটি যেন তৎক্ষণাৎ খারিজ ও উপেক্ষা করা হয়। কারণ, তিনি কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই সরকারিভাবে সই ও হলফনামা জমা দিয়েছেন।

তাসের ঘরের মতো ভাঙছে ঋতব্রত শিবির?

বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে মমতা শিবির ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়েছিল। তবে এখন যেন খেলা উলটো ঘুরতে শুরু করেছে।

গত অগাস্টেই ঋতব্রত-তৃণমূল ছেড়ে ‘মমতা অনুগামী তৃণমূল’-এ যোগ দিয়েছিলেন আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকি। তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে সরাসরি দাবি করেছিলেন, “আমাকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করে ঋতব্রতের দলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।” সেই সময় মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষকে পাশে নিয়ে তিনি ঘরে ফেরেন এবং কুণাল ঘোষ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন, “প্রয়োজনে গোপন ব্যালটে ফ্লোর টেস্ট হোক, দেখা যাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক কালীঘাটের সঙ্গেই আছেন।”

কাসেম সিদ্দিকির পাশাপাশি ইতিমধ্যেই বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান এবং বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরে এসেছেন। এবার শামিম আহমেদের এই পদক্ষেপ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী শিবিরের ওপর এক বড়সড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল।

Related Articles