রাজ্যের খবর

অন্নপূর্ণা যোজনায় বিশাল কোপ! অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়ার কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর

ভুয়োদের কার্ড সরাসরি বাতিল! চলতি সপ্তাহের মধ্যেই রিপোর্ট জমার নির্দেশ নবান্নের

Truth of Bengal: রাজ্য সরকারের বহুচর্চিত ও জনপ্রিয় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) ঘিরে এক বিরাট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত! এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা দ্রুত যাচাই করে সমস্ত অযোগ্য ও ভুয়া উপভোক্তাদের নাম অবিলম্বে বাদ দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই ছাঁটাই ও যাচাই পর্বের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য সমস্ত জেলাশাসক (DM) এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দফতরের তরফে এই মর্মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

ঠিক কী বলা হয়েছে নির্দেশিকায়?

নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় রাজ্যের যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পান। কিন্তু সম্প্রতি অক্টোবর মাসের উপভোক্তা তালিকায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে এবং অভিযোগ উঠেছে যে, বেশ কয়েকজন অযোগ্য বা ভুয়ো ব্যক্তির নাম এই তালিকায় ঢুকে পড়েছে।

নতুন নির্দেশিকায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, তালিকায় যদি কোনো সরকারি কর্মচারী, আয়করদাতা (Taxpayer) কিংবা কোনও মৃত ব্যক্তির নাম থেকে থাকে, তবে তদন্ত করে তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করতে হবে এবং তালিকা থেকে নাম ছাঁটাই করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যাতে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে শূন্য সহনশীলতার (Zero Tolerance) নীতি নিতে বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

উল্লেখ্য, অযোগ্য বা বেআইনি কোনও ব্যক্তি যে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না, তা আগেই স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে নবান্নের এই নতুন বিজ্ঞপ্তিটি প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

এদিকে, এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা না পড়ায় যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এক মুহূর্তে দূর করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি বড় ঘোষণা করে জানান, দীপাবলির আগেই ১ কোটি ৬৫ লক্ষ অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে। শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, একই সময়ে ৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা এবং ৩ লক্ষ লোকপ্রসার শিল্পীর সুবিধার্থেও ভাতা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৩ তারিখ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৭ লক্ষ ২০ হাজার ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ যোজনার সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির মোট ৪,২০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। ফলে উৎসবের মরশুমে একদিকে যেমন জালিয়াতি রুখতে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে লাখ লাখ যোগ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার।

Related Articles