২৪টি এসি চালিয়েও মণ্ডপে দমবন্ধ পরিবেশ! চোরবাগান পদপিষ্ট কাণ্ডে ফরেনসিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
এবার মণ্ডপের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও বায়ু চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে
Truth of Bengal: মণ্ডপজুড়ে ২৪টি এসি, মোট শীতলীকরণ ক্ষমতা ১৩৪ টন। তা সত্ত্বেও ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, দর্শনার্থীদের দমবন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। চোরবাগান সর্বজনীনের পদপিষ্টের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে আসা তথ্য ঘিরে এবার মণ্ডপের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও বায়ু চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিংবা পর্যাপ্ত জায়গা ফাঁকা থাকলে ১৩৪ টনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথেষ্ট হতে পারত। কিন্তু বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে এসির পাশাপাশি ভেন্টিলেশন ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এর জেরে মণ্ডপের ভিতরে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বহু দর্শনার্থী একসঙ্গে দ্রুত মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। আর তাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে মনে করা হচ্ছে। হুড়োহুড়ি ও অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ঘটে যায় ভয়াবহ বিপর্যয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার প্রথম সপ্তমীর দিন চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়েন দর্শনার্থীরা। প্রবল ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। আহত হন অন্তত ২৫ জন। উৎসবের মরশুমে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার রাতেই তদন্তের বিষয়ে পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাই কোর্টের কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তকারী দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই মতো মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখেন। পরে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে এই তদন্তকারী দল কাজ করছে। সিটে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দপ্তরের সচিব, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিনিধি এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি।






