চোরবাগানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেই কড়া পদক্ষেপ! সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ জুড়ে জারি ১৬৩ ধারা, গ্রেফতার ৭
পুজো কমিটির সম্পাদক থেকে সিকিউরিটি বস, এক ধাক্কায় গ্রেফতার ৭! লালবাজারের জালে কারা?
Truth of Bengal: তিলোত্তমার বুকে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন ও লালবাজার। ঘটনার তীব্রতা বিচার করে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আগামী তিন দিনের জন্য ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। লালবাজারের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, চোরবাগান সংলগ্ন রাস্তাঘাট এবং কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত একাধিক নির্দিষ্ট পয়েন্টে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিপর্যয়ের ঠিক পরপরই রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, এই ঘটনায় দোষী কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এরপরই গিরিশ পার্ক থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্তে নামে লালবাজার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, ষড়যন্ত্র সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার গভীরে গিয়ে ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একাধিক পুজো উদ্যোক্তাকে আটক করে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। ফলস্বরূপ, তদন্তে নেমে একে একে মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চোরবাগান পুজোর সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা এবং সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে। এ ছাড়া বাঁশের কাঠামো লাগানোর দায়িত্বে থাকা বিপ্লব মুখোপাধ্যায়, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ভিআইপি পাস চেকিংয়ের দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা ও পিন্টু দে এবং একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই শীর্ষ কর্তা সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকেও পুলিশ পাকড়াও করেছে।
এদিকে এই ঘটনার জেরে চোরবাগান ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। কলকাতা পুলিশের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বউবাজার থানার অধীনস্থ চোরবাগান পুজো মণ্ডপের আশপাশের রাস্তা, বিশেষ করে কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের নির্দিষ্ট অংশ এবং ইডেন হাসপাতাল রোডের সংযোগস্থলগুলিতে আগামী কয়েকদিন এই কড়াকড়ি বজায় থাকবে। উৎসবের মরশুমে এমন মর্মান্তিক বিপর্যয় ও তার জেরে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে গোটা এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।





