দেশ

৩০-৩৫ বছরের চাকরি অতীত? সরকারি পদে নতুন নিয়ম আনার বিস্ফোরক সুপারিশ মোদী মন্ত্রিসভার!

কর্মসংস্থান এখনও দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ

Truth of Bengal: গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে বেকারত্বের সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে লাগাতার নিশানা করেছে বিরোধীরা। কর্মসংস্থান এখনও দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে বেকারত্ব মোকাবিলায় অভিনব প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প ও ইস্পাতমন্ত্রী তথা কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। তাঁর প্রস্তাব, সরকারি চাকরির মেয়াদ ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হোক। তাঁর মতে, এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতী সরকারি চাকরির সুযোগ পাবেন।

শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে বেকার যুবক-যুবতীদের সঙ্গে এক আলোচনাসভায় এই প্রস্তাব দেন কুমারস্বামী। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে একজন ব্যক্তি সরকারি চাকরি পেলে অনেক সময় ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত সেই পদে কাজ করেন। ফলে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। কুমারস্বামীর মতে, চাকরির মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দিলে একই পদে পর্যায়ক্রমে একাধিক ব্যক্তির কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তাতে উপকৃত হবে আরও বেশি পরিবার। কুমারস্বামীর কথায়, “আমার প্রস্তাব হল, সরকারি চাকরির মেয়াদ ১০-১৫ বছরে বেঁধে দেওয়া হোক।” তাঁর যুক্তি, একজন কর্মী দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে থাকলে তাঁর পরিবার আর্থিক নিরাপত্তা পায়। কিন্তু চাকরির সুযোগ না পাওয়া অসংখ্য পরিবারের কথা ভাবাও জরুরি। তাঁর প্রস্তাব, ১০ থেকে ১৫ বছর চাকরি করার পর কর্মী অবসর নেবেন এবং মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। তাঁর জায়গায় নতুন কাউকে নিয়োগ করা হবে। এতে দু’টি পরিবার উপকৃত হবে বলে মনে করছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আরও বক্তব্য, নির্দিষ্ট মেয়াদে সরকারি চাকরি করার পর কর্মীরা চাইলে বেসরকারি ক্ষেত্রেও কাজ করতে পারবেন। ফলে একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে অভিজ্ঞ কর্মীরাও বিকল্প পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে চাকরির স্থায়িত্ব, পেনশন এবং কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কুমারস্বামীর এই প্রস্তাব আপাতত গোটা দেশের জন্য নয়, কর্নাটকের কথা মাথায় রেখেই দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর কংগ্রেসশাসিত রাজ্যটিতে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনে সরকারি চাকরির মেয়াদ কমিয়ে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা তাঁর অন্যতম প্রতিশ্রুতি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমানে যাঁরা সরকারি চাকরিতে রয়েছেন, তাঁদের চাকরির মেয়াদ কমানোর প্রস্তাব তিনি দিচ্ছেন না। বরং ভবিষ্যতে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা চালুর পক্ষপাতী তিনি।