রাজ্যের খবর

হিন্দু-মুসলিম নয়, যোগ্য পেলেই মিলবে ঘর! বিরোধীদের কড়া জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

"বিজেপি এলে টাকা মিলবে না?" আবাসের হিসাব সামনে এনে নাম না করে কাকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু!

Truth of Bengal: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে বিরোধীদের অপপ্রচার ও ধর্মীয় ভেদাভেদের রাজনীতিকে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের মরশুমে বিরোধীদের তোলা মিথ্যা দাবি খারিজ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোনও ধর্মীয় পক্ষপাত না করে প্রকৃত ‘যোগ্য’ প্রাপকদের হাতেই আবাসের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা তুলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার মালদহের বন্যাবিধ্বস্ত ভূতনির দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ হানেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটের সময় আপনাদের কাছে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল যে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে আবাসের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আর পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা কোনও হিন্দু-মুসলিম বেছে সাহায্য করিনি। যাঁরা আন্তরিকভাবে ঘর তৈরি করছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রাপ্য টাকা সরকার মিটিয়ে দিয়েছে।” তথ্য প্রকাশ করে তিনি জানান, পূর্বতন সরকার ৬৭ হাজার ১১৩ জনকে প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সঠিক যাচাইয়ের মাধ্যমে ৫৬ হাজার ৭৬০টি পরিবারকে সফলভাবে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পৌঁছে দিয়েছে। একইসঙ্গে জেলা জুড়ে নতুন করে আরও ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৬০২টি পরিবারকে পাকা বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার মেগা ঘোষণা করেন তিনি।

তবে সরকারি সুবিধার নামে দুর্নীতি করা প্রতারকদের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি ধ্বনিত হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। ভুয়ো বা অবৈধ উপায়ে নাম তুলে যাঁরা টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, তাঁদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “টাকা তো ফেরত দিতেই হবে, একইসঙ্গে জেলেও যেতে হবে। সরকার গঠনের পাঁচ মাস পার হয়ে গিয়েছে বলে ভাববেন না যে ভুলেই গিয়েছি! দুর্নীতিবাজদের জেলে ঢোকাবই।” একই মঞ্চ থেকে ভূতনির বন্যা ও নদীভাঙন দুর্গতদের জরুরি সহায়তার জন্য মোট ২৪২ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি।

সামাজিক ব্যাধি নির্মূলের লক্ষেও মালদহবাসীর কাছে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বাল্যবিবাহ রোধে এবং সামাজিক সংস্কারে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আবেদন জানান। কড়া ভাষায় তিনি সতর্ক করে বলেন, “১২-১৪ বছরের নাবালিকারা মা হয়ে যাচ্ছে, এটা সমাজ ও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভয়ঙ্কর এক ব্যাধি। কোনোভাবেই নাবালিকা বিয়ে মেনে নেওয়া হবে না। এর পাশাপাশি জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন বা ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে চরম হুঙ্কার দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মালদহে তাঁর জমানায় অবৈধ ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ঘটলে প্রশাসন বিন্দুমাত্র রেয়াত করবে না।

Related Articles