গ্ল্যামার জগত ছেড়ে এক ধাক্কায় ২০ কেজি ওজন কমিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে টানা ৬০ দিন কার্গিলে ছিলেন নানা
তাঁকে শুধু অভিনেতা নয়, একজন দেশপ্রেমী মানুষ হিসেবেও আলাদা করে চেনায়
Truth of Bengal: নানা পাটেকরকে দর্শক চেনেন তাঁর তীব্র অভিনয়, অনন্য সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং মাটির কাছাকাছি থাকা জীবনযাপনের জন্য। কিন্তু তাঁর জীবনের এমন একটি অধ্যায় রয়েছে, যা তাঁকে শুধু অভিনেতা নয়, একজন দেশপ্রেমী মানুষ হিসেবেও আলাদা করে চেনায়। ১৯৯৯ সালের ভারত-পাকিস্তান কার্গিল যুদ্ধের সময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও সিনেমার কাজ থামিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন নানা। যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ দিন সেনাদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন তিনি। নানা পাটেকর আশির দশকের শেষ দিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেনাজীবনের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয় ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবিতে সেনা কমান্ডোর চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতির সময়। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কোনও শর্টকাট নিতে চাননি তিনি। তাই মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছর প্রশিক্ষণ নেন। সেই প্রশিক্ষণই তাঁকে সেনাবাহিনীর জীবন ও কঠিন বাস্তবতার আরও কাছে নিয়ে যায়।
১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধ শুরু হলে আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি নানা। তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তাদের কাছে গিয়ে সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করার অনুমতি চান। তাঁকে জানানো হয়, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু প্রতিরক্ষামন্ত্রীর রয়েছে। এরপর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের কাছে সরাসরি আবেদন করেন নানা। তিনি নিজের শুটিং দক্ষতার কথা জানান এবং আগে পাওয়া একটি পদকের কথাও উল্লেখ করেন। অনুমতি মেলার পর তিনি সেনাবাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের সঙ্গে যুক্ত হন। শ্রীনগর, দ্রাস এবং লেহ-সহ একাধিক কঠিন এলাকায় সেনাদের সঙ্গে ছিলেন তিনি। মোট ৬০ দিন কাটান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশ, তীব্র ঠান্ডা এবং দুর্গম অবস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে তাঁর শরীরেও পড়ে গভীর প্রভাব। নানা নিজেই একাধিকবার জানিয়েছিলেন, কার্গিলে যাওয়ার সময় তাঁর ওজন ছিল ৭৬ কেজি। ফিরে আসার সময় তা কমে দাঁড়ায় ৫৬ কেজিতে।
সেনাদের জীবন কতটা কঠিন, কার্গিলের খাড়া পাহাড়ে তাঁদের কীভাবে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়— সেই অভিজ্ঞতা নানা পরে বহুবার স্মরণ করেছেন। তাঁর কাছে সেনাবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি নিজেই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই জীবন অনুভব করেছিলেন। নানার মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর অভিনয়ের তীব্রতা, নিজস্বতা এবং স্পষ্টবাদিতার প্রশংসা করেছেন। অক্ষয় কুমার স্মরণ করেছেন তাঁর কণ্ঠ, সততা ও স্বাতন্ত্র্যকে। রীতেশ দেশমুখ তাঁকে বলেছেন পর্দার বাইরেও এক ‘বড় মাপের নায়ক’। আজ নানা পাটেকর নেই। কিন্তু তাঁর জীবনের এই অধ্যায় মনে করিয়ে দেয়, পর্দায় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তিনি দেশের সেনাদের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছিলেন।



