দেশ

জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল দিল্লি-মুম্বই, যন্তর মন্তরে জারি ১৬৩ ধারা! বন্ধ বহু মেট্রো স্টেশন

গান্ধী জয়ন্তীতে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে অগ্নিগর্ভ দিল্লি-মুম্বই

Truth of Bengal: স্বৈরাচারী ও বেআইনি কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গান্ধী জয়ন্তীতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেশের রাজনীতি। শুক্রবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এবং মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে জোড়া বৃহৎ প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল একাধিক ছাত্র, যুব ও নাগরিক সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে আন্দোলন ভেস্তে দিতে ভোর রাত থেকেই নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ।

যন্তর মন্তর চত্বর ও সমগ্র নয়াদিল্লি এলাকায় ইতিমধ্যেই বহাল করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা)। এর ফলে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের যেকোনও ধরনের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে আবার ফিরে এসেছে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস আন্দোলনের স্মৃতির কোলাহল। পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে এবং সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাফ বাহিনী। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনা হয়েছে ৩৬০ ডিগ্রিতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ার উপযোগী ‘বজ্র’ বাহন এবং জলকামানবাহী গাড়ি ‘বরুণ’। তা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে নারাজ। এসএফআই সভাপতি আদর্শ এম সাজি এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা যন্তর মন্তরে নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করবেনই। অপরদিকে পুলিশ সতর্কবার্তা দিয়েছে, কোনও স্লোগান বা বিক্ষোভ দেখা গেলেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে যন্তর মন্তরের আশপাশের মোট ১১টি মেট্রো স্টেশন সাধারণ যাত্রীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লির ট্রাফিক পুলিশ কনট প্লেস, প্যাটেল চক, তলস্তয় মার্গ ও সংসদ ভবন সংলগ্ন পথ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

অন্যদিকে মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে সিজেপি-র ‘জেল ভরো’ কর্মসূচিতেও বাঁধ সেধেছে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নিয়ন্ত্রিত পুলিশ। বম্বে হাইকোর্টের ২০১৩ সালের নির্দেশের দোহাই দিয়ে তারা জমায়েতের অনুমতি দেয়নি। তবে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে সাফ জানিয়েছেন, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে এই লড়াই চলবেই। এরপর কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষেই ফের দিল্লিতে আরও বড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

Related Articles