দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘একতরফা সিদ্ধান্ত’র অভিযোগ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

আবেদনকারীর বক্তব্য, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদে নির্বাচন সংক্রান্ত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেওয়া হয়েছে, কোনও একক কমিশনারকে নয়

Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক এবার পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কমিশনের অন্য দুই সদস্যের সম্মতি ছাড়াই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এই অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া একটি আবেদনের শুনানিতে সম্মত হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটি শোনার কথা। আবেদনটি করেছেন রাকেশ কুমার সিং। তাঁর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং মামলাটি আদালতের সামনে উল্লেখ করেন। আবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন কি না। আবেদনকারীর বক্তব্য, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদে নির্বাচন সংক্রান্ত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেওয়া হয়েছে, কোনও একক কমিশনারকে নয়।

মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, এসআইআর-সহ নির্বাচন কমিশনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অজান্তে বা তাঁদের মতামত ছাড়াই অন্তত কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে আবেদনকারীর অভিযোগ। সেই কারণেই কমিশনের নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি আইনসম্মত ছিল কি না, তা যাচাই করার আবেদন জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে। ভোটার তালিকার ডিজিটাল ডেটাবেস নিয়েও মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ও ভোটার-ডেটায় কারা পরিবর্তন করতে পারবেন, তা নিয়ে কমিশনের অন্দরেই আপত্তি উঠেছিল। এই সংক্রান্ত ব্যবস্থার অডিটের দাবিও উঠেছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কমিশনের অন্দরে এসআইআর নিয়ে মতবিরোধের অভিযোগ মানতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের বৈঠকের পর কমিশন জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুন দেশজুড়ে এসআইআর শুরু করার নির্দেশ তিন নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদনেই জারি হয়েছিল। বিহার থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এসআইআর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও সর্বসম্মত ছিল বলে দাবি কমিশনের। কমিশন আরও জানিয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনারের কয়েকটি আপত্তি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা ছিল না; বরং কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের কাজের ধরন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত বিষয় ছিল। কমিশনের দাবি, সংশ্লিষ্ট কিছু নির্দেশ শেষ পর্যন্ত কার্যকরও হয়নি। ফলে একদিকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সর্বসম্মতির দাবি—এই দুই অবস্থানের মধ্যে প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কী ছিল, সেই প্রশ্নই এখন সুপ্রিম কোর্টের সামনে। আগামী সপ্তাহের শুনানিতে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে।

Related Articles