কলকাতা

“স্বামীজির ছবিতে লাথি বরদাস্ত করা হবে না!”, SRFTI কাণ্ডে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথের হুঙ্কার

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উগ্র হিংসা বনাম বিবেকানন্দের অপমান! এসআরএফটিআই প্রাঙ্গণে ধুন্ধুমার, তদন্তে পুলিশ

Truth of Bengal: দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এ গত রবিবারের নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও চরম বিশৃঙ্খলা নিয়ে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোমবার এক কর্মসূচির শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ ও ভারতমাতার অপমান কোনও অবস্থাতেই মানা যাবে না। পুলিশ পুরো বিষয়টির তদন্ত করছে, ঘটনার পেছনে থাকা অপরাধী বা উস্কানিদাতা কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

উল্লেখ্য, গত রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ কর্তৃপক্ষের যথাযথ লিখিত অনুমতি নিয়ে এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে বার্ষিক সভার আয়োজন করেছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (ABGP)। তবে প্রাঙ্গণে বহু বহিরাগত ব্যক্তির প্রবেশে আপত্তি জানিয়ে একাংশ ছাত্র প্রতিবাদ শুরু করলে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। প্রাকটিক্যাল ক্লাসের স্থানে বেসরকারি রাজনৈতিক সভার বিরুদ্ধে ছাত্ররা দেওয়ালে পোস্টার টাঙালে, দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট শুরু হয়ে যায়। এই সংঘর্ষে একাধিক ছাত্র এবং বাঁচাতে যাওয়া অধ্যাপকেরাও রক্তাক্ত ও আহত হন। ঘটনায় আক্রান্ত শিক্ষার্থী মেঘরাজ রাওয়ের অভিযোগ, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করায় হাতাহাতি শুরু হয় এবং আমরা কোনওক্রমে প্রাণ বাঁচাতে হস্টেলে পালাই।” তবে বিজেপির জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন এবিজিপি-র রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায় পাল্টা দাবি করেন, “ভাড়া দিয়ে অনুমোদিত সভা করার সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছেঁড়া হয়।”

এই মারাত্মক অভিযোগের প্রেক্ষিতে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কোনো ধরনের হিংসাই অত্যন্ত নিন্দনীয়। তবে যে ছবি সামনে এসেছে, সেখানে দুই পক্ষের সংঘাতের মাঝে স্বামী বিবেকানন্দ বা ভারতমাতার ছবিতে লাথি পড়া দেখা যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে কতটা ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে! কোনো খাঁটি বাঙালি শিক্ষার্থী কখনো স্বামীজিকে অপমান করতে পারে না। নবান্ন ও শিক্ষা দফতর এই অপসংস্কৃতি প্রাঙ্গণ থেকে উপড়ে ফেলবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ অলআউট পদক্ষেপ নেবে।”

মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের পক্ষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পাদক ভাস্কর সর্দার এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি (KUTA)-র সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ শিক্ষাঙ্গনে এই চরম হিংসাত্মক পরিবেশকে অনভিপ্রেত ও অন্যায় বলে ধিক্কার জানিয়েছেন। এদিকে, সোমবার ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নিঃশব্দ মৌন প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে, প্রাক্তনীদের তরফে অনির্বাণ দত্ত বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে জানান, হামলাকারীদের লাঠিতে পেরেক পোঁতা ছিল, অর্থাৎ তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই রক্তাক্ত তাণ্ডব চালাতে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছিল। এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ঘটনায় কলকাতা এখন উত্তপ্ত।