গাড়িতে তল্লাশি চালাতেই মিলল বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র! বনগাঁয় গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস
ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েও মিলল না সুরক্ষা! বেআইনি অস্ত্র কাণ্ডে পুলিশের জালে বনগাঁর হেভিওয়েট বিশ্বজিৎ দাস
আত্মজিৎ চক্রবর্তী, বনগাঁ: বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নবান্ন ও রাজ্য পুলিশের জিরো-টলারেন্স নীতি বহাল রয়েছে। শাসক বদলের পর দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একে একে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক ও তৃণমূল নেতারা। এবার সেই গ্রেফতারির তালিকায় যুক্ত হল আরও এক হেভিওয়েট নাম, বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস (Biswajit Das)। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ-সহ সোমবার দুপুরে গোপালনগর এলাকা থেকে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হতেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বনগাঁর গোপালনগর বাজার এলাকায় ওঁত পেতে ছিল গোপালনগর থানার পুলিশ। বিশ্বজিৎ দাসের গাড়িটি ওই এলাকা দিয়ে অতিক্রম করার সময় পথ আটকে দাঁড়ায় পুলিশ বাহিনী। প্রাক্তন বিধায়ককে গাড়ি থেকে নামিয়ে ভেতরে চিরুনি তল্লাশি শুরু করতেই উদ্ধার হয় পয়েন্টেড বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র। এই মারাত্মক অস্ত্র গাড়িতে রাখার কারণ ও বৈধ লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চরম অসঙ্গতিপূর্ণ উত্তর দেন বিশ্বজিৎ। তিনি কোনও সন্তোষজনক নথি দেখাতে না পারায় প্রথমে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে বেআইনি অস্ত্র আইনে গ্রেফতার করা হয় এবং গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বজিৎ দাস বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে দু’বারের নির্বাচিত বিধায়ক ছিলেন এবং ২০২৪ সাল থেকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি হিসেবে সক্রিয় দায়িত্ব সামলেছেন। গত লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট পেলেও পরাজিত হন তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও দল তাঁকে পুনরায় প্রার্থী করলেও ভরাডুবি ঘটে। ভোটের পর মূল দল ভেঙে গেলে তিনি বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ‘ঋত তৃণমূল’ শিবিরে ভিড়ে যান বলে খবর মিলেছিল।
রাজ্যে নতুন বিজেপির সুশাসন ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া আইনের শাসনের মধ্যে দিয়ে একজন দাপুটে প্রাক্তন বিধায়কের এই লজ্জাজনক গ্রেফতারি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এদিনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও, পদ্ম শিবির কড়া কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে জানিয়েছে, “আগের জমানায় যারা বন্দুক আর পেশিশক্তির জোরে এলাকা শাসন করত, শুভেন্দু অধিকারীর বাংলায় তাদের স্থান জেলেই হবে!”





