“মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই ২৪ ঘণ্টা ফিল্ডে!”, ট্রোলার ও বিরোধীদের একযোগে কড়া জবাব অগ্নিমিত্রার
"মুখ্যমন্ত্রী এমন কোনো নির্দেশই দেননি, সব ভুয়ো খবর!" নবান্নের বৈঠক বিতর্কে মুখ খুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অগ্নিমিত্রা
Truth of Bengal: নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুই মন্ত্রীকে দফতরে বসে কাজ করার কড়া ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রচারিত হতেই জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধীরাও বিষয়টি নিয়ে আসরে নেমে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। তবে এবার সমস্ত রটনা ও সংবাদমাধ্যমের দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বিতর্কিত খবরের তীব্র বিরোধিতা করে পুরমন্ত্রী সাফ জানান, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাকে বা অন্য কোনো মন্ত্রীকে এমন কোনও নির্দেশ দেননি। বিষয়টি স্পষ্ট করতে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী দফতর (CMO) থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়ান জারি করে এই ভিত্তিহীন রটনা নস্যাৎ করা হয়েছে।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি রাস্তায় নেমে ফিল্ড ওয়ার্ক করছি, কারণ সাধারণ মানুষের পরিষেবার জন্য সেটা করা অত্যন্ত দরকার। শুধু তা-ই নয়, এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে ও পরামর্শেই করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শহর ও শহরতলির পরিকাঠামো বদলে ব্যাপক সরকারি অভিযান শুরু হয়েছে। ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, দ্রুত জঞ্জাল সাফাই এবং রাস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শন চালাচ্ছেন পুরমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা দূর করতে এবং সাধারণ পথচলতি মানুষের সুবিধার জন্য বাথরুম তৈরি, সঠিক ডাস্টবিন বসানো এবং নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং মার্কিংয়ের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলিং বা বিরোধী শিবিরের অপপ্রচারকে বিন্দুমাত্র আমল না দিয়ে মন্ত্রী সাফ জানান, “কে কী রটাল বা অপপ্রচার করল, তাতে আমাদের কিচ্ছু যায় আসে না। আমরা জনসেবায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করছি। মুখ্যমন্ত্রী আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে প্রতিটি দফতরকে নির্দিষ্ট টার্গেটভিত্তিক কাজ শেষ করে রিপোর্ট পেশ করতে বলেছেন এবং আমরা সেই কঠোর লক্ষ্যের দিকেই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এগোচ্ছি।” পুরমন্ত্রীর এই কড়া জবাবে নবান্নের বৈঠক কেন্দ্রিক সমস্ত বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক জলঘোলা আপাতত থামল বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।






