পুজোর আগে পেঁয়াজ-চিনির দামে লাগাম? বড় বার্তা পঞ্চায়েতমন্ত্রীর
মঙ্গলবার বাজার পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ
Truth of Bengal: পুজোর আগে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে স্বস্তি ফেরাতে পেঁয়াজ ও চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজার শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটের পরিকাঠামোও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাজার পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটে এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে কৃষি বিপণন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বাজারের রাস্তা, নিকাশি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল থেকে শুরু করে যানবাহন চলাচল—একাধিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যের মোট ৫০টি রেগুলেটেড মার্কেটের পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে শিলিগুড়িও। উত্তরবঙ্গের এই বাজার থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শাকসবজি, ফল, মাছ এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্য বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। ফলে বাজারের পরিকাঠামো আরও আধুনিক করা প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার। প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিকাশি ব্যবস্থায়। সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারের বিভিন্ন অংশে জল জমার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই সমস্যা মেটাতে পুরনো নর্দমাগুলি সংস্কার এবং জল বেরনোর ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাজারের প্রবেশ ও বেরনোর পথ নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে ট্রাক ও অন্যান্য যান চলাচলের কারণে যানজট না হয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজারের ভিতরেই জৈব বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করে সার তৈরির ব্যবস্থা এবং প্লাস্টিক, থার্মোকলের মতো অজৈব বর্জ্য আলাদাভাবে প্রক্রিয়াকরণের পরিকাঠামো তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে বর্জ্য সরাতে ব্যবসায়ীদের যে অতিরিক্ত খরচ হয়, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে তা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রশাসনের। দূরদূরান্ত থেকে আসা ট্রাকচালক ও খালাসিদের জন্য বিশ্রামের জায়গা, উন্নত পানীয় জল এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবাও তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কোল্ডস্টোরেজ গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের কমলালেবু, আনারস, অ্যাভোকাডোর মতো পচনশীল ফল কিংবা বাইরে থেকে আসা পেঁয়াজ ও সবজি যাতে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা।
পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এদিন আলাদা করে পেঁয়াজ ও চিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, চলতি মাসের মধ্যেই খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩৫ টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে নাফেডের মাধ্যমে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ সংগ্রহ করে কলকাতার একাধিক সরকারি বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রি শুরু হয়েছিল। এবার বাজারে আরও বড় পরিসরে সেই দামের সুফল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। চিনির দাম নিয়েও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রীর আশা, পুজোর আগেই উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের খুচরো বাজারে চিনি কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বা তার কমে পাওয়া যেতে পারে। এর আগে পোস্তার ব্যবসায়ী এবং পাইকারি বাজারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে কৃষি বিপণন দপ্তর।






