দেশ

সাংসদপদ খারিজের নোটিস ঘিরে জট! স্পিকারের কাছে ফের ৪ সপ্তাহ সময় চাইলেন ২০ সাংসদ

প্রথমে স্পিকারের নোটিসে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না দিয়ে তিন সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন ওই সাংসদেরা

Truth of Bengal: তৃণমূল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের সাংসদপদ থাকবে কি না, তা নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত। দলত্যাগ-বিরোধী আইনে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিতে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা যে নোটিস পাঠিয়েছিলেন, তার জবাব দিতে এবার আরও চার সপ্তাহ সময় চাইলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ সাংসদ। প্রথমে স্পিকারের নোটিসে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না দিয়ে তিন সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন ওই সাংসদেরা। তাঁদের আবেদন মেনে স্পিকার ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখেই ফের চার সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। সাংসদদের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাখিল করা বিস্তারিত আবেদনে একাধিক আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে, যার যথাযথ জবাব প্রস্তুত করতে আরও সময় প্রয়োজন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন এবং পরে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানান। লোকসভায় তাঁদের বসার ব্যবস্থাও আলাদা করা হয়েছে। তবে স্পিকারের দপ্তর এখনও তাঁদের পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। এর পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী ওই ২০ সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবি জানিয়ে পৃথক আবেদন করেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া স্বেচ্ছায় দলের সদস্যপদ ত্যাগের শামিল। অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের শিবিরের দাবি, তাঁদের পদক্ষেপ বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি বা ‘মার্জার’-এর আওতায় পড়ে এবং তাই অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না। এই দুই দাবিরই চূড়ান্ত বিচার এখনও হয়নি।

এই বিতর্ক ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। অভিষেকের আবেদনে শীর্ষ আদালত ২০ সাংসদকে নোটিস দিয়েছে এবং স্পিকারের দপ্তরে অযোগ্যতা সংক্রান্ত আবেদনগুলি কত দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে। বিচারপতিরা আগের শুনানিতে স্পষ্ট করেছিলেন, শুধু নোটিস জারি করাই যথেষ্ট নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকা অনুযায়ী মামলাটি ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে উঠতে পারে। তবে ওই শুনানিতেই ২০ সাংসদের সদস্যপদ থাকবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে—এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আদালতের সামনে মূল প্রশ্ন হল, লোকসভার স্পিকারের কাছে মুলতুবি থাকা অযোগ্যতা সংক্রান্ত আবেদনগুলির নিষ্পত্তিতে কতটা বিলম্ব হয়েছে এবং কত সময়ের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শেষ করা উচিত।

Related Articles