‘কংগ্রেসের সঙ্গে আর কোনও জোট নয়’, উপনির্বাচনের আগে কড়া বার্তা মমতার
দলীয় সূত্রের দাবি, সংসদের ভিতরে বা বাইরে কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে চলার বাধ্যবাধকতা আর দেখছে না তাঁর শিবির
Truth of Bengal: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সমঝোতার সম্ভাবনা আপাতত কার্যত শেষ। আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বোঝাপড়া নিয়েও কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের দাবি, সংসদের ভিতরে বা বাইরে কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে চলার বাধ্যবাধকতা আর দেখছে না তাঁর শিবির। উপনির্বাচনের আগে দুই দলের মধ্যে সম্ভাব্য আসন সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। কংগ্রেসের একাংশের দাবি, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর নিয়ে দিল্লিতে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের স্তরে আলোচনা হয়েছিল। যদিও তৃণমূলের তরফে এমন কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে সমঝোতার বিষয়টি নিয়েই দুই শিবিরের বক্তব্যে ফারাক রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস যদি বাংলায় শুধুমাত্র প্রাদেশিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মেনেই চলে, তা হলে সংসদে তাদের সঙ্গে একযোগে চলার কোনও বাধ্যবাধকতা তৃণমূলেরও নেই। অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, তৃণমূল চাইলে আগে দুই উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করুক। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোটগ্রহণ হবে। নন্দীগ্রাম আসনটি শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পর শূন্য হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়ে ভবানীপুর আসনটি রাখেন। অন্যদিকে রেজিনগর ও নওদা থেকে জয়ী হুমায়ুন কবীর রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।
নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। কংগ্রেস সেখানে ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধানকে প্রার্থী করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। রেজিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি এবং মমতা-শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। ফলে দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগেই কংগ্রেস ও মমতা-শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। ভোটের ফলের পাশাপাশি এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে দুই দলের সংসদীয় সমন্বয়ে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।






