ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় অগ্নিমূল্য তেলের বাজার! ভারতের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আতঙ্ক
পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও তীব্র হয়েছে
Truth of Bengal: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের অর্থনীতিতেও। আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও তীব্র হয়েছে। উৎসবের মরসুমের মুখে এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে খাদ্য সূচকে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। অগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৭.০৫ শতাংশ। উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। জুলাইয়ে যেখানে এই বিভাগে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ, অগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৭ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে। অগস্টে এই খাতে পাইকারি মূল্যসূচকের বৃদ্ধির হার ২২.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, খনিজ তেল, খাদ্যপণ্য, মৌলিক ধাতু এবং রাসায়নিক শিল্পের কাঁচামাল আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়াই সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরো মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জুলাই মাসে দেশের খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৪.৪৫ শতাংশ। অগস্টে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সেই সূচকেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেমনটা হলে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, নুন-সহ দৈনন্দিন ব্যবহারের একাধিক পণ্যের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শুরু থেকেই দেশের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই আসে।
ভারত এখনও জ্বালানির ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর। দেশের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ বিদেশ থেকে কিনতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সেই তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে সারের দাম বৃদ্ধি কৃষিক্ষেত্রের উৎপাদন খরচেও চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই দুই কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই ঘরোয়া বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম চড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তা। জুলাই মাসের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্যপণ্যের দামের উপর আরও চাপ পড়তে পারে।


