বিশ্বযুদ্ধের সঙ্কেত পেতেই মাথায় হাত নিবেশকদের! এক ধাক্কায় ৬০০ পয়েন্টের বেশি নামল সেনসেক্স
বুধবার বাজার খোলার পর কার্যত ধস নামে সেনসেক্স ও নিফটিতে
Truth of Bengal: মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের উত্তাপ, আর তার ধাক্কা সরাসরি এসে পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই উদ্বেগেই বুধবার বাজার খোলার পর কার্যত ধস নামে সেনসেক্স ও নিফটিতে। একসময় সেনসেক্স ৭০০ পয়েন্টেরও বেশি নেমে যায়। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বাজার লাল দাগ থেকে বেরোতে পারেনি। বুধবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেনসেক্স ৬১৩.৭৩ পয়েন্ট বা ০.৮০ শতাংশ নেমে ৭৬,৩৩০.৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। একইভাবে নিফটি ২১৭.৯৫ পয়েন্ট বা ০.৯১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২৩,৮৩৭.৮৫ পয়েন্টে। ব্যাঙ্ক নিফটিতেও বড় পতন দেখা যায়, সূচক প্রায় ৩৬১.৫০ পয়েন্ট নিচে নেমে আসে।
বাজারের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরেই এদিন বিক্রির চাপ দেখা গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারগুলির মধ্যে রয়েছে আইচার মোটরস, যার দাম প্রায় ৪.৫৭ শতাংশ কমেছে। টাটা মোটরস নেমেছে ৩.৭৩ শতাংশ, হুন্ডাই মোটর ৩.৩৪ শতাংশ, বাজাজ অটো ৩.২৭ শতাংশ এবং শ্রীরাম ফিনান্স প্রায় ২.৬২ শতাংশ পতনের মুখে পড়েছে। তবে এই দুর্বল বাজারেও কিছু শেয়ার উল্টো পথে হেঁটেছে। কোল ইন্ডিয়ার শেয়ার প্রায় ৪.৬৮ শতাংশ বেড়েছে। টাটা পাওয়ারে বৃদ্ধি ২.৪২ শতাংশ, আদানি গ্রিন এনার্জি ১.৩৪ শতাংশ এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদার শেয়ার প্রায় ০.৭৬ শতাংশ উপরে ছিল। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মূল কারণ পশ্চিম এশিয়ার নতুন করে বেড়ে ওঠা উত্তেজনা। যুদ্ধবিরতির আশা দুর্বল হয়ে যাওয়ার মধ্যেই ইরানের মাটিতে ফের মার্কিন হামলার খবর সামনে এসেছে। এর ফলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি চিন্তা হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। বিশ্বের তেল পরিবহণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে কোনওরকম বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সংঘাতের খবর সামনে আসতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। ভারতের কাছে এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। দেশের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের বড় অংশই আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন চড়া থাকলে আমদানি খরচ বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে এবং দেশের অর্থনীতির উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই আশঙ্কাতেই আপাতত সতর্ক বিনিয়োগকারীরা, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে শেয়ার বাজারেও।



