গুণগতমানে ফেল! এভারেস্টের হিংয়ে কড়া পদক্ষেপ FSSAI-এর
অন্যদিকে, লালজি গোধু-র কারখানা থেকে সংগ্রহ করা ছ’ধরনের কাঁচা হিংয়ের নমুনায় ১৫ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত স্টার্চের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
Truth of Bengal: ফের বিতর্কের কেন্দ্রে জনপ্রিয় মশলা প্রস্তুতকারী সংস্থা এভারেস্ট। গুণগতমানের পরীক্ষায় নির্ধারিত মান পূরণ করতে না পারায় এভারেস্ট ফুড প্রোডাক্টস এবং লালজি গোধু-র তৈরি হিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ বা FSSAI। অভিযোগ, নির্ধারিত খাদ্যমান না মেলায় সংশ্লিষ্ট হিংয়ের বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে দেশের বেশ কয়েকটি পরিচিত হিং ব্র্যান্ডের উপর নজরদারি শুরু করে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মুম্বই ও গুজরাটে এভারেস্টের কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষায় গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
নিয়ম অনুযায়ী হিংয়ে ন্যূনতম ৫ শতাংশ অ্যালকোহল-দ্রবণীয় নির্যাস থাকা প্রয়োজন। কিন্তু পরীক্ষায় নমুনাগুলিতে ০ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে সেই উপাদান পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি। অর্থাৎ, প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম কাঁচা হিং ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, লালজি গোধু-র কারখানা থেকে সংগ্রহ করা ছ’ধরনের কাঁচা হিংয়ের নমুনায় ১৫ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত স্টার্চের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী স্টার্চের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হওয়ার কথা। এই ফারাক সামনে আসার পরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
FSSAI-র তরফে দুই সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে, কীভাবে তারা ভবিষ্যতে নির্ধারিত মান বজায় রাখবে এবং ইতিমধ্যে বাজারে পৌঁছে যাওয়া নিম্নমানের পণ্যগুলি কীভাবে প্রত্যাহার করবে। নির্দেশিকা মেনে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এভারেস্টের এগ কারি মশলা, চিকেন মশলা এবং গরম মশলার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয় চিহ্নিত হয়েছে বলে দাবি। যদিও এই তিনটি পণ্য এখনও নিষিদ্ধ করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
এভারেস্টের মশলা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও বিদেশের কয়েকটি বাজারে সংস্থার নির্দিষ্ট কিছু মশলায় ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং কিছু পণ্যের বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা বা প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি হয়েছিল। এবার দেশের বাজারেই হিংয়ের গুণগতমান নিয়ে পদক্ষেপ হওয়ায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় মশলা ব্র্যান্ডটি।


