কলকাতা

যাদবপুর কাণ্ডে রাজভবনে এবিভিপি! পিএইচডি দুর্নীতিতে সিবিআই তদন্ত ও অধ্যাপক শাস্তির দাবি

ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার ঘটনায় অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনের প্রতিনিধিদল

Truth of Bengal: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং একাধিক অভিযোগকে সামনে রেখে এবার রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আর এন রবির দ্বারস্থ হল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি। পিএইচডি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ কার্যকলাপের অভিযোগ এবং ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার ঘটনায় অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনের প্রতিনিধিদল। এবিভিপির তরফে জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলে থাকা সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থে প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

যাদবপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই এবিভিপির দাবির পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে তিনি এবিভিপির সাংগঠনিক শক্তির প্রশংসা করে বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে এবিভিপি লড়াই করেছে, এবার যাদবপুরেও তাদের সংগঠন শক্তিশালী হবে। শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পরই পাল্টা সরব হয়েছে এসএফআই। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করানোর দাবিও তুলেছে বাম ছাত্র সংগঠনটি।

‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাব দিয়েছে এসএফআই। তাদের বক্তব্য, এই স্লোগান কোনও রাষ্ট্রবিরোধী বার্তা নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে পড়াশোনা, মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবির প্রতীক। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আপত্তি থাকলেও ভবিষ্যতেও এই স্লোগান উঠবে বলে জানিয়েছে সংগঠন। ফলে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা এখন রাজভবন পর্যন্ত পৌঁছে গেল। এবিভিপির স্মারকলিপি, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য এবং এসএফআইয়ের পাল্টা অবস্থানের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের।