কাশেম মমতার ‘ঘরে’ ফিরতেই ফ্লোর টেস্টের দাবি কুণালের! পাল্টা জেলযাত্রার অতীত নিয়ে খোঁচা ঋতব্রতর
আমডাঙার বিধায়ক দল বদলাতেই কুণালের চ্যালেঞ্জ, পাল্টা ধুয়ে দিলেন ঋতব্রত!
Truth of Bengal: আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দীকি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ ছেড়ে পুনরায় কালীঘাট শিবিরে যোগ দিতেই চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল বিধানসভা চত্বরে। ঘটনার পরপরই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে ‘গোপন ব্যালটে’ ফ্লোর টেস্টের কড়া দাবি তোলেন। তবে এই দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ না করে পাল্টা চ্যলেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কুণাল ঘোষের অতীত কারাবাস টেনে নিয়ে কড়া জবাব দিতেও ছাড়েননি তিনি।
সোমবার বিধানসভার প্রেস কর্নারে কাশেম সিদ্দীকিকে পাশে বসিয়ে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তিশালী নেতৃত্বে ভরসা রেখে আরও এক বিধায়ক আমাদের কালীঘাট শিবিরে ফিরে এলেন। এবার আমরা চাই বিধানসভায় প্রকাশ্যে আসুক প্রকৃতপক্ষে কোন দিকে কতজন তৃণমূল বিধায়ক রয়েছেন।” কুণালের এই দাবি ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হতেই পালটা তোপ দাগেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমরা ফ্লোর টেস্টের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। যেকোনও দিন ফ্লোর টেস্ট হতে পারে। কিন্তু উনি (কুণাল ঘোষ) তো বিধানসভার স্পিকার বা হাইকোর্টের বিচারপতি নন যে উনি দিন ঠিক করবেন! তাছাড়াও ফ্লোর টেস্ট তো কোনওদিন গোপনে হয় না, তা প্রকাশ্যেই নিয়ম মেনে হয়।”
কাশেম সিদ্দীকির শিবির বদল প্রসঙ্গে ঋতব্রত দাবি করেন, কাশেম কোনওদিনই তাঁদের পক্ষে ছিলেন না, শুরু থেকেই তিনি কালীঘাট শিবিরের অনুগামী। এরপর বিধায়ককে কটাক্ষ করে বিরোধী দলনেতা বলেন, “উনাকে বলব আগে নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র আমডাঙায় একবার অন্তত ঘুরে আসুন। জেতার পর থেকে ভোটাররা ওনাকে খুঁজে পাচ্ছেন না।” এর পাশাপাশি কুণাল ঘোষের সাংসদ থাকাকালীন জেল খাটার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে ব্যক্তিগত কটাক্ষও হানেন ঋতব্রত।
অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার বিধানসভায় ঘটে এক আবেগঘন মুহূর্ত। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদ বনগাঁর রণজিৎ দাসের পরিবার এসে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। রণজিতের ছেলে রজত দাসের চাকরি পাওয়ার পরও তা হাতছাড়া হয়ে যায়। সেই হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করার অনুরোধ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। ফলে একদিকে দলবদলের খেলা আর অন্যদিকে শহিদ পরিবারের ভবিষ্যৎ, এই দুই ইস্যুতে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।





