“ছেড়ে কথা বলব না, সোজা থানায় যাব!”, মীরা ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে মিথ্যা খবরে রেগে আগুন সুচেতন!
বুদ্ধদেবের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার! ভুয়ো খবর ছড়াতেই কড়া পদক্ষেপ সন্তানের
Truth of Bengal: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের শারীরিক অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক কুৎসিত ও ভুয়ো খবর। আর এই ধরণের অপপ্রচারে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বুদ্ধদেব-মীরার সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য। চিকিৎসাধীন মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং ভুয়ো খবর রটাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ ও থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পেটের মারাত্মক সমস্যায় ভুগছিলেন ৭৬ বছর বয়সি মীরা দেবী। শুক্রবার রাতে যন্ত্রণা অসহ্য হয়ে উঠলে তাঁকে কলকাতার আলিপুরের উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর চিকিৎসার জন্য একাধিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে রয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সরোজ মণ্ডল, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডঃ শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডঃ সেমন্তী চক্রবর্তী। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে মীরা দেবী বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
তবে এই চিকিৎসার মাঝেই নেটপাড়ার একাংশে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কিত একাধিক ভুয়ো খবর, যা নজরে আসতেই চরম বিরক্তি প্রকাশ করে বুদ্ধদেবের পরিবার। সুচেতন ভট্টাচার্য জানান, “মায়ের শারীরিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভাল ও স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর খুব শীঘ্রই তাঁকে ছুটি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। এই সময়ে দাঁড়িয়ে যাঁরা সমাজমাধ্যমে এভাবে মনগড়া ও কুরুচিকর খবর ছড়াচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, মীরা দেবীর হৃদযন্ত্রে আগে থেকেই পেসমেকার বসানো রয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে সেই পেসমেকারের ব্যাটারি বদলানোর জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল, তবে তারপর থেকে তিনি সুস্থই ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পেটের সমস্যার চিকিৎসা সফলভাবে চলছে এবং উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। মীরা দেবীর দ্রুত আরোগ্য কামনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

