কি থেকে এই মারাত্মক বিপর্যয়? নিউ মার্কেট ট্র্যাজেডিতে ফরেনসিক দলের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
Truth of Bengal: নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারীদের অনুমান, তিনতলার রিসেপশন সংলগ্ন এসির তার বা পোর্টের অংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এসি বসানো জায়গার একটি অংশ ফুলে যাওয়ার চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বৈদ্যুতিক তারে এবং মুহূর্তের মধ্যে গোটা ভবন বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ফরেনসিক সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এসিতে আগুন লাগার পর একের পর এক বৈদ্যুতিক তার ফাটতে শুরু করে। আগুনের পাশাপাশি ঘন কালো এবং বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন অংশে। সেই ধোঁয়াতেই শ্বাসরোধ হয়ে ৯ জন আবাসিকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
আগুনের সময় অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘর ও প্যাসেজ ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি অনেকেই। প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হয়নি। তিনতলায় বাংলাদেশের এক সাংবাদিক তাঁর স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে ছিলেন। একই তলায় পৃথক একটি ঘরে ছিলেন তাঁর বাবা। আগুন লাগার পর তাঁরা বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন বলে তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। পরে প্যাসেজ থেকে পরিবারের দুই সদস্যের দেহ উদ্ধার হয়। রিসেপশনের পাশের ঘরে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ান। তাঁরও বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। সন্দীপের বুকে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। কীভাবে সেই আঘাত লেগেছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
বুধবার সব মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা যায়নি। বৃহস্পতিবার মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হোটেলের পলাতক মালিকের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ১৯ অগস্ট ভোররাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ৬ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। মৃতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন, যাঁরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। ঘটনার পর থেকেই হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ও আবাসিকদের একাংশের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা না থাকায় আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়া আবাসিকদের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এখন ফরেনসিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত এবং পুলিশের তদন্ত—এই তিন দিক থেকেই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


