বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ ছাড়লেন কাজল শেখ, অনুব্রত গোষ্ঠীর অনাস্থার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ব্যক্তিগত কারণ নাকি দলীয় কোন্দল? অবশেষে জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ ছাড়লেন কাজল শেখ!
Truth of Bengal: বীরভূম জেলার রাজনীতিতে বড়সড় বিস্ফোরণ! জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফয়জুল হক ওরফে কাজল শেখ। প্রশাসন তাঁর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে। বর্ধমান ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনার তথা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁর এই ইস্তফা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। হঠাৎ কাজল শেখের এমন পদক্ষেপে রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও তরজা। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দ্বন্দ্বই কি শেষপর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াল?
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনার পর থেকে কাজল শেখ জেলা পরিষদের কার্যকলাপে সক্রিয় ছিলেন না। ফলে থমকে গিয়েছিল স্থায়ী সমিতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এমতাবস্থায় জেলা পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ে। বীরভূম জেলা পরিষদের ৫২ জন সদস্যের মধ্যে ১৯ জন সদস্য এই অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিলেন, যাঁরা জেলা রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। এর পরপরই কাজল শেখের ইস্তফা দেওয়া নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে।
গত ১৯ আগস্ট সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চিঠি জমা দিয়েছিলেন কাজল শেখ। নিয়ম মেনে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে পদত্যাগের কারণ স্পষ্ট করতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হয়ে জানান, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এর পেছনে কোনও বাহ্যিক চাপ ছিল না। তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে প্রশাসন ইস্তফাপত্রটি মঞ্জুর করে।
পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর ১৪৪(৪) ধারা অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে জেলা পরিষদের যাবতীয় দায়িত্ব, নথি, রেজিস্টার ও সিলমোহর নির্বাহী আধিকারিকের হাতে তুলে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাসন বিধানসভা থেকে জয়ী হন কাজল শেখ। পরবর্তীতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। তবে শিবির বদলালেও অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীদের সঙ্গে তাঁর অভ্যন্তরীণ সংঘাত কমেনি। দলের ভেতরের এই টানাপোড়েন এবং অনুব্রত গোষ্ঠীর সক্রিয়তাই কাজল শেখের ইস্তফার নেপথ্যে মূল কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





