অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাই ছিল না! নিউ মার্কেটের হোটেল যেন ‘মৃত্যুপুরী’! ৯ প্রাণহানির পর সামনে ভয়াবহ অব্যবস্থা
পর্যাপ্ত আলো-বাতাস বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে
Truth of Bengal: নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজন। ঘটনার পর ওই বহুতলের ভিতরের পরিস্থিতি সামনে আসতেই একের পর এক প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুরসভার অনুমোদন এবং অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো নিয়ে। অভিযোগ, পাঁচতলা ওই বহুতলের একাধিক তলায় আলাদা আলাদা হোটেল চলছিল। প্রত্যেক তলাতেই ছিল ছোট ছোট ঘর, যেগুলিকে স্থানীয়রা ‘পায়রার খোপ’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বহুতলের ভিতরে একাধিক এয়ার কন্ডিশনার চললেও অগ্নিনির্বাপণের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত প্রাথমিক পরিকাঠামোও চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ। ফলে এতগুলি হোটেল কীভাবে একসঙ্গে ওই ভবনে চলছিল এবং কোন কোন প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল, তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যানের নিয়ম মানা হয়নি। বহুতলের ভিতরে অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক ছোট ঘর তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে। স্থানীয়দের একাংশ আবার পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এই ধরনের অনিয়ম চলার অভিযোগও তুলেছেন। মধ্যরাতে আচমকাই বহুতলে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের খবর টের পেয়ে আতঙ্কে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা শুরু করেন তাঁরা।
কিন্তু অভিযোগ, সরু পথ এবং বিকল্প বেরোনোর রাস্তার অভাবে অনেকেই বাইরে আসতে পারেননি। কালো ধোঁয়ার মধ্যে দিশেহারা হয়ে পড়েন বহু আবাসিক। আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ততক্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক মানুষ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত বড় বহুতলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কীভাবে একাধিক হোটেল চলছিল এবং প্রশাসনিক নজরদারিতে কোথায় গাফিলতি ছিল।





