সরকারি নির্দেশকে কাঁচকলা! তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলায় ডিজে-র দাপটে চরম নাকাল পুণ্যার্থীরা
৩৭ কিলোমিটার জুড়েই বাজছে তারস্বরে সাউন্ড বক্স! শ্রাবণী মেলায় শব্দদূষণ নিয়ে ক্ষোভের মুখে প্রশাসন
Truth of Bengal: রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল প্রশাসন। এমনকি বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান থেকেও মাইক ও সাউন্ড বক্স সরিয়ে ফেলার জন্য উদ্যোগী হতে দেখা যায় পুলিশকে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক লেগেই থাকলেও সাধারণ মানুষ ও পরিবেশকর্মীরা সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, জনভোগান্তি কমাতে এই ধরনের কঠোর নিয়মের বিশেষ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই সরকারি নির্দেশিকা ও বিধিনিষেধ কতখানি মানা হচ্ছে, তা নিয়ে পুনরায় বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে।
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে প্রতি বছরই তারকেশ্বরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের ঢল নামে। বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল নিয়ে ভক্তরা প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ হেঁটে তারকেশ্বর মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালতে যান। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে তীর্থযাত্রীদের বিশ্রামের জন্য রাস্তার দু’পাশে গড়ে ওঠে অসংখ্য অস্থায়ী শিবির ও জলছত্র। অভিযোগ উঠছে, এই সমস্ত শিবিরে নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই উচ্চশব্দে বাজানো হচ্ছে ডিজে ও সাউন্ড বক্স। শুধু জলছত্রেই নয়, অনেক তীর্থযাত্রী নিজেদের শোভাযাত্রাতেও বিশাল আকৃতির সাউন্ড বক্স ব্যবহার করছেন।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এবং হুগলি গ্রামীণ পুলিশ এলাকার অধীনে থাকা উত্তরপাড়া, কোন্নগর, রিষড়া, শ্রীরামপুর, শেওড়াফুলি থেকে শুরু করে সিঙ্গুর ও তারকেশ্বর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এখন একটানা সাউন্ড বক্সের দাপট চলছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবীণ নাগরিক ও ছোট শিশুরা। বিকট শব্দের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন।
মেলা শুরু হওয়ার আগেই অবশ্য বাজি ও ডিজে বক্সবিরোধী মঞ্চের পক্ষ থেকে হুগলির জেলাশাসক, গ্রামীণ পুলিশ সুপার এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে বেআইনি ডিজে বাজানো ও প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে প্রশাসনের কাছে আগাম লিখিত আর্জি জানানো সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রশাসনের নজরদারির অভাব নাকি আয়োজকদের উদাসীনতা, ঠিক কার গাফিলতিতে এভাবে হাইকোর্টের শব্দবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।






