কলকাতা

মাঝআকাশে দিকভ্রান্ত পাইলট! মধ্যমগ্রাম-বারাসতের লেজার আলোয় ঘনিয়ে এল বড় বিপদের মেঘ

রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ অবতরণের ঠিক আগে, রানওয়ে থেকে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল দূরে মধ্যমগ্রাম-বারাসত এলাকার দিক থেকে ককপিটে তীব্র লেজার আলোর ঝলকানি এসে পড়ে।

Truth of Bengal: কলকাতা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিমান অবতরণের সময় ফের বড়সড় বিপত্তির ঘটনা সামনে এলো। শনিবার রাতে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘এমএইচ-১৮৪’ বিমানটি ১৫৯ জন যাত্রী ও ৭ জন কেবিন ক্রু নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে কলকাতায় ফিরছিল। রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ অবতরণের ঠিক আগে, রানওয়ে থেকে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল দূরে মধ্যমগ্রাম-বারাসত এলাকার দিক থেকে ককপিটে তীব্র লেজার আলোর ঝলকানি এসে পড়ে। আচমকা এই আলোয় পাইলটের দৃষ্টি সাময়িকভাবে ঝাপসা হয়ে যায় এবং তিনি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

ফলে সঠিক সময়ে বিমানটি অবতরণ করাতে না পেরে বাধ্য হয়ে আকাশে চক্কর কাটতে থাকেন পাইলট। পরবর্তীতে রাত ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ দক্ষ হাতে বিমানটিকে নিরাপদে রানওয়েতে নামিয়ে ৫৭এল পার্কিং বে-তে দাঁড় করানো হয়। যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা সকলেই সুরক্ষিত থাকলেও বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বিমানটি।

এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এনএসসিবিআই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় লেজার আলোর প্রভাবে বিমানে এমন সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ইতিপূর্বেও একাধিকবার দুর্গাপুজোর সময়ে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবসহ আশপাশের একাধিক মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার লেজার আলোর তীব্র ঝলকানিতে ককপিটে দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় পড়েছেন পাইলটরা। পুলিশের তরফে বারবার এই বিষয়ে সতর্ক করা সত্ত্বেও নজরদারির ফাঁক গলে কীভাবে ফের লেজার আলো ব্যবহার করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Related Articles