পানিহাটিতে ধুন্ধুমার! হাতকড়া পরিয়ে তীর্থঙ্করকে এলাকায় ঘোরাতেই উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের ছেলের চরম পরিণতি! পুলিশি পাহাড়ায় তীর্থঙ্করকে দেখেই ফেটে পড়ল জনরোষ
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়, তারপর লটারি কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক হিংসার মামলায় গ্রেফতার, কামারহাটি-পানিহাটি বেল্টের একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পরিবার এখন আক্ষরিক অর্থেই খাদের কিনারায়। শনিবার এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা পানিহাটি এলাকা। পুলিশি হেফাজতে থাকা নির্মল-পুত্র তথা সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ ওরফে ‘পুচিদা’কে এদিন তদন্তের স্বার্থে পানিহাটির বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। আর হাতকড়া পরা তীর্থঙ্করকে চেনা এলাকায় দেখামাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। চারদিক থেকে ধেয়ে আসে ‘চোর চোর’ স্লোগান। একই সঙ্গে পলাতক বাবা নির্মল ঘোষকেও অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন সাধারণ মানুষ।
রত্না দেবনাথের কাছে হার এবং লটারি মামলার জের
উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত ২০২৬ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বাবা নির্মল ঘোষের জায়গায় তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির টিকিটে লড়াই করেছিলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। নির্বাচনের ফলাফলে রত্না দেবনাথের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তীর্থঙ্কর। রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকেই এই বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে জমে থাকা একাধিক দুর্নীতির ফাইল খুলতে শুরু করে পুলিশ। যার মধ্যে অন্যতম ছিল এক গাড়িচালকের লটারিতে জেতা কোটি টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ। এই লটারি মামলাতেই গত সপ্তাহে খড়দহ থানার পুলিশ হন্যে হয়ে খোঁজার পর অবশেষে গ্রেফতার করে তীর্থঙ্করকে।
জমি দখল থেকে বোমাবাজি, রয়েছে ভুরি ভুরি অভিযোগ
পানিহাটি ও সোদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজত্ব চালিয়েছেন নির্মল ঘোষ। বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান পানিহাটির ‘পুচিদা’র। সোদপুরের অমরাবতীর মাঠ থেকে শুরু করে একাধিক জমি দখল, সিন্ডিকেট রাজের মতো হাজারো অভিযোগ জমা পড়লেও এতদিন পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি বলে দাবি স্থানীয়দের। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং ১৮ এপ্রিল পানিহাটির বিজেপি নেতা জয় সাহার অমরাবতী দক্ষিণায়নের বাড়িতে তৃণমূলআশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিয়ে বোমাবাজির ঘটনাতেও মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়ায় তীর্থঙ্করের।
পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও সূত্র খোঁজার জন্য শনিবার কড়া নিরাপত্তায় তীর্থঙ্করকে এলাকায় নিয়ে এলে বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশকেও। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে পুলিশ হেফাজতে থাকা তীর্থঙ্করকে জেরা করে এই সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি চক্রের মূল মাথা তথা গা ঢাকা দিয়ে থাকা প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।






