চালক ছাড়াই গঙ্গার তলা দিয়ে ছুটবে মেট্রো! সফল ট্রায়ালের পর এখন শুধু সবুজ সংকেতের অপেক্ষা!
কেবিনে থাকবেন চালক, কিন্তু হাত ছোঁয়াবেন না হ্যান্ডেলে! কলকাতার মেট্রো রেলে এবার অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি!
Truth of Bengal: তিলোত্তমার বুকে আরও এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের অপেক্ষা। এবার আর চালকের হাতের ছোঁয়ায় নয়, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের বুদ্ধিতেই কলকাতার ট্র্যাকে ছুটবে মেট্রো রেল। সম্প্রতি শেষ হওয়া সফল পরিদর্শনের পর এখন শুধু কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি (সিআরএস)-এর চূড়ান্ত ছাড়পত্রের অপেক্ষা। গ্রিন লাইন বা হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত বিস্তৃত রুটে এই অত্যাধুনিক চালকহীন মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ার সম্ভাবনা এখন উজ্জ্বল।
গত রবিবার দুপুরে দেশ ও রাজ্যের রেল যোগাযোগের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হল। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত চালকহীন মেট্রোর পরীক্ষামূলক দৌড় এবং নিরাপত্তা পরিদর্শন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সিআরএস-এর প্রতিনিধি দল গঙ্গার তলদেশের আন্ডারওয়াটার টানেল-সহ পুরো রুটে জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেন পরিচালনার নিখুঁত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান এবং প্রতিটি ধাপেই সবুজ সংকেত মেলে।
৪৫ সেকেন্ডে গঙ্গার তলদেশ পার!
মেট্রো সূত্রের খবর, এই চালকহীন পরিষেবার মূল চালিকাশক্তি হলো অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক কমিউনিকেশন-ভিত্তিক ট্রেন কন্ট্রোল (CBTC) সিগন্যালিং প্রযুক্তি। গঙ্গার তলদেশে থাকা ৫২০ মিটার দীর্ঘ টানেল মাত্র ৪৫ সেকেন্ডে নিরাপদে পার হওয়ার অগ্নিপরীক্ষাতেও এদিন সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে এই রেক। রবিবারের পরীক্ষামূলক সফরে ট্রেনের কেবিনে কোনো চালক হস্তক্ষেপ করেননি, যদিও সেখানে প্রোটোকল মেনে ব্যাকআপ হিসেবে চালক ও রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সেন্ট্রাল পার্ক থেকে রিমোট কন্ট্রোল
রবিবার এই বিশেষ অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন (ATO) পরিদর্শনের জন্য গ্রিন লাইনে সকালের পরিবর্তে বিকেল সাড়ে ৪টেয় প্রথম বাণিজ্যিক মেট্রো চালানো হয়। গঙ্গার নিচে সুড়ঙ্গ এবং লাইনের ১২টি স্টেশনে আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার যাবতীয় পরিকাঠামো খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। মজার বিষয় হল, গোটা ট্রেনটিকে সেন্ট্রাল পার্কের অপারেশন কন্ট্রোল রুম থেকে রিমোটের মাধ্যমে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
তবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথম প্রথম চালকহীন ট্রেন দেখে যাত্রীরা যাতে কোনওভাবেই আতঙ্কিত বা আশঙ্কিত না হয়ে পড়েন, তার জন্য ট্রেনের কেবিনে আপাতত একজন চালক উপস্থিত থাকবেন। তবে ট্রেনের গতি এবং নিয়ন্ত্রণ থাকবে কম্পিউটারের হাতেই, চালকের ভূমিকা কেবল দরজা খোলা এবং বন্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সব ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতা মেট্রোয় শুরু হতে চলেছে এই অভাবনীয় পরিষেবা।






