“অভিষেককে সরালেই দিদির কাছে ফিরবে সবাই”, ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েই বিস্ফোরক রবীন্দ্রনাথ
দলের এই নজিরবিহীন ভরাডুবি এবং ভাঙনের জন্য সরাসরি যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাক-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।
Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের কোন্দল এবার কার্যত সুনামির আকার ধারণ করল। ২১ জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের আগে মমতা গোষ্ঠীকে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগ দিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও পুরনো যুদ্ধসঙ্গী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (Rabin Ghosh)। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কোচবিহারের এই দাপুটে নেতা দলে যোগ দিয়েই সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
প্রায় দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তৃণমূলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানো এবং মমতা ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দলবদল ঘাসফুল শিবিরের ভাঙনকে আরও স্পষ্ট করে দিল। ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েই দলনেত্রীর প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল থেকে রবি ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে কি সত্যিই আজ কোনও ক্ষমতা অবশিষ্ট আছে? নাকি সমস্ত ক্ষমতা অন্য কোথাও কুক্ষিগত হয়ে গিয়েছে? আসলে দলে এখন অযোগ্যরা বড় বড় দায়িত্ব পেয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে অনেক কিছু ভাল করতে চাইলেও, পরিস্থিতি এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে তিনি চাইলেও অনেক কিছু করতে পারেননি।”
“অভিষেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম, দলটার বারোটা বাজাল আইপ্যাক”, বিস্ফোরক রবি ঘোষ
দলের এই নজিরবিহীন ভরাডুবি এবং ভাঙনের জন্য সরাসরি যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাক-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি সাফ বলেন, “অভিষেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কম। সে কোনও গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে লড়াই করে রাজনীতিতে উঠে আসেনি। আর এই আইপ্যাক আসলে কে? কিছু বাচ্চা বাচ্চা ছেলে এসে আমাদের মতো প্রবীণ নেতাদের নির্দেশ দিচ্ছে! আমরা রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে আন্দোলন করে দলটাকে তৈরি করেছি। ২০১১ বা ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক জয়ের সময় তো কোনও আইপ্যাক ছিল না! তবে হঠাৎ এমন কী হল যে আইপ্যাককে আনতে হলো? এরা এসে পুরো দলটার বারোটা বাজিয়ে দিয়ে চলে গেল।”
“অভিষেককে সরালেই দিদির কাছে ফিরবে সবাই”, কর্মীদের বাঁচাতে ‘আসল’ তৃণমূলে উত্তরবঙ্গের নেতারা
শিবির বদল করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এখনও অটুট রয়েছে বলে জানান এই প্রবীণ নেতা। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি চিরকাল শ্রদ্ধা করি এবং করব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে আজ যারা দল ছাড়ছেন, তাঁরা আবার দিদির কাছে ফিরে যাবেন। বহু নেতার সঙ্গে কথা বলে আমি এটাই বুঝতে পেরেছি।”
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, ঋতব্রত কোনও আলাদা দল নয়, যেখানে মেজরিটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে সেটাই আসল তৃণমূল। উত্তরবঙ্গের বহু বিধায়ক ও হেভিওয়েট নেতা এখন এক জায়গায় একত্রিত হয়েছেন। রবি ঘোষের অভিযোগ, “দল চালনার দায়িত্বে থাকা অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা আজ হারের পর ঘরছাড়া। আর সাধারণ কর্মীরা নিচুতলায় চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সেই সব অসহায় কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতেই আমার এই সিদ্ধান্ত।”





