রাজ্যের খবর

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারেও ‘দুর্নীতি’! অভিযোগে গ্রেফতার পুরুলিয়ার জেলা সহ-সভাধিপতি ও ভাইপো

মাঝরাতে সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশের হানা! অন্নপূর্ণা যোজনা লুঠের অভিযোগে ভাইপো-সহ গ্রেফতার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা

Truth of Bengal: ক্ষমতা চলে গেলেও দুর্নীতির পুরনো অভ্যাস যে এখনও মজ্জাগত, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো পুরুলিয়ায়। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মহিলাদের জন্য চালু করা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojna)-য় বড়সড় জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগে এবার গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা পুরুলিয়া জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Sujoy Banerjee)। শনিবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে পুঞ্চা থানার পুলিশ। একই সঙ্গে এই মেগা কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ভাইপো তথা পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় ও চরণপাহাড়ি দাসকে। ছাব্বিশের ভোটে হারের পর তৃণমূলের এই ডাকসাইটে নেতার শ্রীঘরে যাওয়ার খবর ঘিরে তোলপাড় জঙ্গলমহল।

পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানা এলাকায় বিজেপি সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম ফিলাপ ও উপভোক্তাদের তালিকায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ সামনে আসছিল। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, এই দুর্নীতির জাল বহুদূর বিস্তৃত এবং এর নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে হেরে যাওয়া সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রাতে পুলিশ সুজয়বাবুর বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।

এই মামলার গুরুত্ব বুঝে পুলিশ তদন্তে বেশ কিছু নতুন জামিন অযোগ্য ধারা (Non-bailable Sections) যুক্ত করেছে। যার জেরে পূর্বে জামিন পাওয়া সুজয়বাবুর ভাইপো কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পূর্ত-কার্য ও পরিবহন স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ চরণপাহাড়ি দাসকে রবিবার সকালে ফের নতুন করে রি-অ্যারেস্ট করে আদালতে পেশ করা হয়।

বিডিও অফিসের অতিথি আবাসে মধ্যরাতের ‘গোপন ফাইল’ কেলেঙ্কারি

এই মেগা জালিয়াতির সূত্রপাত হয়েছিল গত মঙ্গলবার রাতে। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, ব্লক কার্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিডিও (BDO) অফিসের অতিথি আবাসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছিলেন তৃণমূলের এই প্রথম সারির নেতারা। অভিযোগ, সেখানে পঞ্চায়েতের এক এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট গৌতম দাস ও পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা আধিকারিকের যোগসাজশে অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি নথি ও ডেটাবেসে কারচুপি করার চেষ্টা চলছিল। বিডিও-র লিখিত এফআইআর-এর ভিত্তিতে সেদিন রাতেই পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। যদিও বুধবার পুরুলিয়া জেলা আদালত থেকে তারা জামিন পেয়ে যান। কিন্তু পুলিশ হাল ছাড়েনি, আসল চক্রীকে ধরতে জাল বিছিয়ে রেখেছিল।

আদালতে তোলার সময় নীরব সুজয়, জঙ্গলমহলে তৃণমূলের রাজনৈতিক কফিনে শেষ পেরেক?

রবিবার সকালে কড়া পুলিশি পাহারায় যখন সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরুলিয়া আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে কার্যত বোবা হয়ে যান এই দাপুটে নেতা। সরকারি প্রকল্পে সাধারণ গরিব মহিলাদের টাকা নয়ছয় করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও উত্তর না দিয়ে মুখ লুকিয়ে গাড়িতে উঠে যান। জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাব্বিশের নির্বাচনে এমনিতেই পুরুলিয়া-সহ গোটা জঙ্গলমহলে তৃণমূল ধুয়েমুছে গিয়েছে। তার ওপর ক্ষমতা হারানোর পরেও এই ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও সরকারি অফিসে মধ্যরাতের বেনিয়ম প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ এখনও পুরোপুরি খতম হয়নি। এই গ্রেফতারির পর পুরুলিয়ায় তৃণমূলের সংগঠন যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।