রাজ্যের খবর

বারুইপুর এন*কাউন্টারে বড় মোড়! সত্য উদঘাটনে এবার তদন্তে নামছে রাজ্য পুলিশের সিআই

সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই বারুইপুর পুলিশ জেলার হাত থেকে এই মামলার তদন্তভার সিআইডি-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Truth of Bengal: বারুইপুরের হাইপ্রোফাইল নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টার ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। এবার সেই বিতর্কিত এনকাউন্টারের আসল সত্য উদঘাটন করতে পুলিশি তদন্তের দায়িত্বভার রাজ্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখা বা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়া হলো। নিয়ম অনুযায়ী, যে পুলিশ জেলার অধীনে এনকাউন্টার ঘটে, তারা নিজেরা সেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারে না। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই বারুইপুর পুলিশ জেলার হাত থেকে এই মামলার তদন্তভার সিআইডি-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আইনি নিয়ম মোতাবেক যেকোনো পুলিশি এনকাউন্টারের ক্ষেত্রেই একটি বিচারবিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজন হয়। প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর পর ইতিমধ্যেই সেই বিচারবিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিআইডি-র বিশেষ দল ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে সমান্তরালভাবে তাদের পুলিশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে। দুটি তদন্তই আইন অনুযায়ী পাশাপাশি চলবে।

পুলিশের পেশ করা পূর্ববর্তী বিবরণ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ ধৃত অভিযুক্ত প্রভাসকে নিয়ে অপরাধের অকুস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করতে গিয়েছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। সেই সময় প্রভাসের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্যানিং থানার পুলিশ সার্কেলের ইনচার্জ রনি সরকার। পুলিশের দাবি, আচমকাই রনি সরকারের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে অন্ধকারের সুযোগে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। পুলিশ আধিকারিকেরা তাকে ধাওয়া করলে সে পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালায়। তখন সহকর্মী ও নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পাল্টা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল। পুলিশের ছোঁড়া দুটি গুলি প্রভাসের বুকের ডান দিকে এবং কোমরের উপরে লাগলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই এনকাউন্টারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতর শুরু হয়েছে। শাসকদলের অন্দরেই এই ঘটনা নিয়ে দু’রকম সুর শোনা যাচ্ছে। তৃণমূলের একটি বড় অংশ এই ঘটনাকে উত্তরপ্রদেশের অতীতের যোগী প্রশাসনের ‘এনকাউন্টার সংস্কৃতি’র সঙ্গে তুলনা করে খোঁচা দিতে ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, দলেরই আরেকটি গোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ নারকীয় অপরাধের কড়া শাস্তির নিরিখে এই পুলিশি পদক্ষেপের প্রশংসায় সরব হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী দল সিপিএম এবং কংগ্রেসও এই এনকাউন্টারের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমন এক চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার আবহেই এবার পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে নামছে সিআইডি।

Related Articles