রাজ্যের খবর

২২ কোটির প্রতারণা কাণ্ডে সাতসকালে অ্যাকশনে ইডি! কলকাতা-হাওড়া সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় ম্যারাথন তল্লাশি

২৫ মাসের মেয়াদে বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৪ শতাংশ হারে আকর্ষণীয় মুনাফা মিলবে—এমনই লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে লগ্নিকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজার থেকে তোলে তারা।

Truth of Bengal: চিট ফান্ড এবং মোটা অংকের আর্থিক প্রতারণার মামলার শিকড় খুঁজতে এ রাজ্যে ফের কোমর বেঁধে তল্লাশি অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কলকাতার একটি বহুল চর্চিত ই-কমার্স সংস্থার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই তদন্তের সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলির একাধিক ঠিকানায় হানা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা।

এই বড়সড় মামলার সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের মে মাসে কালীঘাটের এক বাসিন্দার করা অভিযোগের ভিত্তিতে। কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের করা ওই অভিযোগে জানানো হয়, ‘জারাডোবিট অ্যান্ড জারাডোবিট ই-শপার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ই-কমার্স সংস্থা ফেয়ারলি প্লেসে অফিস খুলে বড়সড় প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল। ২৫ মাসের মেয়াদে বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৪ শতাংশ হারে আকর্ষণীয় মুনাফা মিলবে—এমনই লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে লগ্নিকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজার থেকে তোলে তারা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও সেই টাকা ফেরত না দিয়ে ডিরেক্টরেরা কোটি কোটি টাকার প্রতারণা করে বলে অভিযোগ।

কলকাতা পুলিশের পর মামলার গুরুত্ব বুঝে পরবর্তীতে তদন্তভার হাতে নেয় ইডি। সেই মামলারই জাল গুটিয়ে আনতে বৃহস্পতিবার সকালে ইডির একাধিক দল একযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হানা দেয়। তদন্তকারীদের একটি বড় দল পৌঁছায় হাওড়ার ব্যাঁটরায়, যেখানে এই প্রতারণা চক্রের অন্যতম ডিরেক্টর সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে শুরু হয় ম্যারাথন তল্লাশি। একই সাথে ইডির নজরদারিতে আসে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর এবং নদিয়ার রানাঘাটের বেশ কিছু সন্দেহভাজন এলাকা।

অভিযানের অংশ হিসেবে নদিয়ার রানাঘাট সংলগ্ন কালীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা শুভ্রকান্তি নাগ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে হাজির হন তদন্তকারীরা। তবে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাছাড়া থাকায় শুভ্রকান্তির বাড়িটি ফাঁকাই ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শেয়ারবাজারের প্রশিক্ষণ এবং মোটা লাভের টোপ দিয়ে ‘স্টক গুরুকুল’ নামে একটি জাল চিটফান্ড সংস্থা চালাতেন এই শুভ্রকান্তি। ইডি সূত্রে খবর, ফেয়ারলি প্লেসের প্রতারণা চক্রের সাথে গভীর যোগ ছিল রানাঘাটের এই ব্যবসায়ীর। এমনকি চক্রটির মাধ্যমে দুবাইয়ের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর কাছে প্রতারণার টাকা বিদেশে পাচার (মানি লন্ডারিং) করা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।