রাজ্যের খবর

মমতা পথে নামলেও অভিষেক শুধুই ভিডিও কলে! ডিম-হামলার ভয়েই কি বারুইপুর গেলেন না ‘যুবরাজ’?

কথা ও কাজের আকাশ-পাতাল ফারাক! বারুইপুর কাণ্ডেও রাস্তায় না নেমে ভিডিও কলেই দায় সারলেন অভিষেক

Truth of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ও বাংলার রাজনৈতিক মহলে ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে একাধিক মারাত্মক প্রশ্ন। “ভোটে জেতাই শেষ কথা নয়, সারাবছর মানুষের পাশে থাকাই আসল লক্ষ্য”, একসময় নির্বাচনী জনসভা কাঁপানো ‘যুবরাজ’-এর সেই চড়া সুর আজ কোথায়? বারুইপুরের হাড়হিম করা নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর যেখানে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নেমে মোমবাতি মিছিল করছেন, সেখানে অভিষেক কেন কেবল এসি ঘরে বসে ভিডিও কলেই দায় সারছেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

একদা নিজের সংসদীয় এলাকায় গিয়ে যিনি বুক ফুলিয়ে বলতেন, “আমি আপনাদের ঘরের ছেলে, সারাবছর পাশে থাকি”, ছাব্বিশের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের গোহারা হারের পর সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা ও কাজের বিস্তর ফারাক আজ আমজনতার সামনে স্পষ্ট। বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে পাশবিক অত্যাচার ও খুনের ঘটনার পর যেখানে সুবিচারের দাবিতে সমস্ত রাজনৈতিক দল পথে নেমেছে, সেখানে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সশরীরে কোথাও দেখা যায়নি। ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার রাতে তিনি কলকাতা বা কালীঘাটের বিলাসবহুল বাড়ি থেকে নির্যাতিতার পরিবারকে একটি ভিডিও কল করেই নিজের কর্তব্য শেষ করেছেন। ফোনে “ধৈর্য রাখুন, একদিন দেখা করতে যাব” বললেও, বাস্তবে সোমবার কালীঘাট তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন এবং প্রতিমা মণ্ডলরা এলাকায় গেলেও দেখা মেলেনি অভিষেকের। এমনকী খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই নৃশংসতার প্রতিবাদে মোমবাতি মিছিল করেছেন, কিন্তু যুবরাজ তখনও ঘরবন্দি!

আর জি করের সেই ‘বিদেশ যাত্রা’ ও ডায়মন্ড হারবারের মেগা ব্যর্থতার খতিয়ান

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, সংকটের দিনে অভিষেকের এই পলায়নবাদী মনোভাব নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে যখন আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গোটা রাজ্য আন্দোলনে উত্তাল ছিল, তখনও শাসকদলের শীর্ষ প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও অভিষেককে রাজপথে দেখা যায়নি। উল্টে তীব্র আন্দোলনের মাঝপথেই তিনি ‘চোখের চিকিৎসার’ বাহানা দিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, যা নিয়ে দলের অন্দরেই কম চর্চা হয়নি। ছাব্বিশের নির্বাচনে অভিষেক দাবি করেছিলেন তাঁর গড় ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত ৭টি বিধানসভাই রেকর্ড ভোটে জিতবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এতদিন বিজেপি দাঁত ফোটাতে পারেনি, সেখানে বেশিরভাগ আসনেই ফুটেছে পদ্ম। নিজের গড় রক্ষা করতে না পারার এই চরম ব্যর্থতার দায়ও এড়িয়ে গিয়েছেন কর্পোরেট অফিসের এই ভোটকুশলী।

সোনারপুরে ডিম-ইটের ঘা! জনবিক্ষোভের ভয়েই কি এখন পুরোপুরি পথহারা যুবরাজ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের পর দলীয় কর্মীদের ওপর চলা হামলার পর তাঁদের পাশে দাঁড়াতে বড্ড দেরি করেছিলেন অভিষেক। আর যখন তিনি সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ি পরিদর্শনে যান, তখন তাঁকে নজিরবিহীন জনবিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম, ইট-পাটকেল ছোঁড়ে। কর্পোরেট অফিসে বসে দলের রণকৌশল তৈরি করা নেতার পিঠে সেই দিনই প্রথম আসল রাজনীতির রুক্ষ মাটির আঘাত লেগেছিল। মনে করা হচ্ছে, সোনারপুরের সেই চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার পর থেকেই আরও ভীত হয়ে পড়েছেন অভিষেক। আর সেই ভয় থেকেই কি বারুইপুরের এই মেগা ক্রাইম ব্রেকিং নিউজ এবং গোটা জেলার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝখানেও তিনি সশরীরে যাওয়ার সাহস দেখালেন না? ভিডিও কলের রাজনীতি দিয়ে যে বাংলার মানুষের মন আর জয় করা যাবে না, তা ছাব্বিশের রায় প্রমাণ করলেও, শিক্ষা নেননি অভিষেক। ফলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে এখন খোদ আমজনতাই জবাব চাইছে।

Related Articles