চুরি বন্ধ হতেই রাম মন্দিরে দৈনিক অনুদান বাড়ল প্রায় ৮ লক্ষ টাকা
সূত্রের দাবি, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়ত, বর্তমানে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ থেকে ২৬ লক্ষ টাকায়।
Truth of Bengal: অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলা চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। চুরি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই মন্দিরের সরকারি হিসাবে জমা পড়া নগদ অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সূত্রের দাবি, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়ত, বর্তমানে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ থেকে ২৬ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ, চুরি বন্ধ হওয়ার পর প্রতিদিন প্রায় ৮ লক্ষ টাকা বেশি জমা পড়ছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট যে দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছিল। বিশেষ দিন বা উৎসব ছাড়া সাধারণ দিনেও অনুদানের পরিমাণ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় চুরির পরিধি নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
এদিকে নগদের পাশাপাশি মন্দির থেকে চুরি যাওয়া সোনার এখনও কোনও হদিশ মেলেনি। সামান্য কিছু নগদ উদ্ধার হলেও মূল্যবান সোনার অলঙ্কার উদ্ধার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর প্রাথমিক অনুমান, চুরি হওয়া সোনা গলিয়ে সোনার বিস্কুটে পরিণত করা হয়েছে, যাতে তার পরিচয় গোপন রাখা যায় এবং সহজে বিক্রি বা লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিট ইতিমধ্যেই রাম মন্দির পরিদর্শন করেছে। মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কেডি বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি দানে পাওয়া গয়না, মূল্যবান ধাতু, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সরকারি মালিকানাধীন প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া-র সঙ্গে হওয়া লেনদেনের সমস্ত নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক ও মিন্টে পাঠানো সোনা-রুপো এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর পূর্ণাঙ্গ হিসাবও তদন্তকারীরা চেয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, দানে পাওয়া সমস্ত মূল্যবান ধাতু নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়নি। তার একটি অংশ নগদের সঙ্গে চুরি হয়েছে বলেই মনে করছে তদন্তকারী দল। বর্তমানে সেই নিখোঁজ সোনার সন্ধানেই জোর দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভক্তদের অনুদান থেকে হওয়া আয় প্রতি তিন মাস অন্তর শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট পর্যালোচনা করলেও সোনা, রুপো ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর মজুত বা হিসাব নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হত না। সেই প্রশাসনিক ফাঁকফোকরকেই কাজে লাগিয়ে এই চুরির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলেছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।






