ভাড়াবাড়িতে লিভ-ইন সম্পর্কের করুণ পরিণতি! ভাগ্নেকে খুন করে ট্রেনের সামনে মরণঝাঁপ মামির, বসিরহাটে চাঞ্চল্য
নিষিদ্ধ প্রেম, লিভ-ইন এবং তারপর হাড়হিম করা খুন! বসিরহাটে মামি-ভাগ্নের জোড়া মৃত্যুতে তোলপাড়
Truth of Bengal: উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ট্যাটরা এলাকার বাসিন্দা দেবাশিস মণ্ডল (৩২)-এর সঙ্গে তাঁরই আপন মামি রুনু মণ্ডল (৩৩)-এর বছরখানেক আগে এক গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় ১৪ বছর আগে বনগাঁয় বিয়ে হয়েছিল রুনুর। কিন্তু ভাগ্নের সঙ্গে এই পরকীয়ার কথা পরিবারে জানাজানি হতেই শুরু হয় তীব্র অশান্তি। শেষমেশ প্রেমের টানে এক মাস আগে ঘর ছাড়েন দু’জনে। বসিরহাটের সাঁইপালার ময়লাখোলা এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে লিভ-ইন শুরু করেন এই যুগল। কিন্তু সুখের সেই দিন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
মৃত যুবকের পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন দেবাশিস। মামির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাবাকে ফোন করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছিলেন। আর সম্ভবত এই ‘প্রত্যাখ্যান’ কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি মামি রুনু মণ্ডল। দেবাশিস তাঁকে ছেড়ে চলে যাবেন, এই ভয়েই শুক্রবার রাতে চরম রূপ নেন রুনু।
“ওকে মেরে ফেলেছি, এবার আমি মরব”, গভীর রাতের সেই অভিশপ্ত ফোন কল!
শুক্রবার মাঝরাতে হঠাৎই দেবাশিসের বাবার ফোনে একটি কল আসে। ওপার থেকে রুনু মণ্ডল হাহাকার করে চিৎকার করে বলেন, “তোমার ছেলেকে আমি মেরেই ফেলেছি! এবার আমি নিজেও আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি…।” এই কথা বলেই ফোন কেটে দেন রুনু। এরপর থেকেই দু’জনের ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়। আতঙ্কে ও উদ্বেগে রাতভর খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেবাশিসের পরিবার।
রেললাইনে মামির ক্ষতবিক্ষত দেহ, ভাড়াবাড়ির দরজা ভেঙে মিলল ভাগ্নের দেহ!
শনিবার সকালে বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন অনন্তপুর এলাকার রেললাইনের ধার থেকে রুনু মণ্ডলের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে রেল পুলিশ (GRP)। ঘটনার খবর ছড়াতেই বসিরহাট থানার পুলিশ ময়লাখোলার সেই ভাড়াবাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। সেখানে দেখা যায়, ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে দেবাশিসের নিথর দেহ। দেবাশিসের পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, রুনু প্রথমে দেবাশিসকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ঝুলিয়ে দেয়, এবং পরে নিজে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়।
এই জোড়া অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে বসিরহাটে। এটি স্রেফ খুনের পর আত্মহত্যা, নাকি এই রোমহর্ষক কাণ্ডের নেপথ্যে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির হাত বা অন্য কোনও গভীর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে বসিরহাট থানার পুলিশ। দেহ দুটি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের ফাইনাল রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল হাতে এলেই এই নিষিদ্ধ প্রেমের আসল রহস্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।





