৬ ঘণ্টা অদিতিকে প্রশ্ন তদন্তকারীদের, আদালত চত্বরে দেবরাজকে লক্ষ্য করে ডিম-হামলা
তদন্তকারী মহলের দাবি, দেবরাজের আর্থিক লেনদেন, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে অদিতি মুন্সি কতটা জানতেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে
Truth of Bengal: দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারের পর এবার তদন্তকারীদের নজরে তাঁর স্ত্রী তথা সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি। বৃহস্পতিবার তাঁকে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি দেবরাজ ও অদিতির একাধিক বাড়িতেও তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দেবরাজের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছে বলেও সূত্রের খবর। তদন্তকারী মহলের দাবি, দেবরাজের আর্থিক লেনদেন, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে অদিতি মুন্সি কতটা জানতেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে দেবরাজ ও অদিতিকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবে। ২০১৩ সালে পুরসভার উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলেও তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। ২০১৫ সালেও টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে জয়ী হন দেবরাজ। পরে তিনি আবার তৃণমূলে ফিরে যান। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকেও রাজনীতিতে নিয়ে আসেন দেবরাজ। ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর আসন থেকে বিধায়ক হন অদিতি। এরপর থেকেই দেবরাজ ও অদিতির বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি এবং অর্থপাচার সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।

হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই দেবরাজকে খুঁজছিল পুলিশ। এরপর বুধবার পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা প্রযুক্তিগত সহায়তায় জানতে পারেন, দেবরাজ ওই এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে। বৃহস্পতিবার ধৃত দেবরাজ চক্রবর্তীকে বারাসত আদালতে তোলা হয়। আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গিয়েছে। দেবরাজের গ্রেপ্তারের পর অদিতি মুন্সিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং একাধিক বাড়িতে তল্লাশি—সব মিলিয়ে এই মামলায় তদন্ত আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।






