কলকাতা

উন্নয়নের গতিধারা দেখতে পাবে মানুষ, স্বচ্ছতাকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চান মন্ত্রী ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার

রাজ্যের পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার এই প্রথম তাঁর দফতর ভিত্তিক একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন।

Truth of Bengal: রাজ্যের পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার এই প্রথম তাঁর দফতর ভিত্তিক একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন। কী ভাবে কাজ করবেন, কী কী পরিকল্পনা আছে সব জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রতিনিধি জয় চক্রবর্তী।

প্রশ্ন— এবার পশ্চিমবঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। আপনি অত্যন্ত দুটো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিক্রিয়া জানতে চাই।
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের আশীর্বাদে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। সুতরাং মানুষের জন্য কাজ করতে হবে এটাই প্রথম এবং একমাত্র লক্ষ্য। মানুষ দেখছে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপগুলি। স্বচ্ছতাকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। এটা প্রতি মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিচ্ছেন। কোনও দুর্নীতি, গুন্ডাবাজি এসব আর পশ্চিমবঙ্গে চলবে না। কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই ফলাফল দেখতে পাবেন।

প্রশ্ন— পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য। দুটোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। কীভাবে এগোচ্ছেন?
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: আমি আগেই বললাম, সাধারণ মানুষের হিতে কাজ করতে হবে। মানুষ আমাদের ভোটে জিতিয়েছেন, অনেক আশা নিয়ে। সেই আশা পূর্ণ করতে হবে। ১৫ অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে দফতর ভিত্তিক কাজের ফলাফল নিজের চোখে দেখতে পাবেন। এখন বর্ষাকাল। কাজ করা অসুবিধে। কিন্তু অক্টোবর মাস থেকে কাজ পূর্ণ গতিতেই এগোবে। ইতিমধ্যেই আমি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সেই ধরনের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আগেভাগে মুখে বলি না। কাজ হয়ে যাবে, তখন আমি বলব এবং আপনাদের দেখাবো।

প্রশ্ন— দফতর চালাতে গেলে পরিকল্পনা করতেই হবে। তারমধ্যে দু একটা পরিকল্পনা যদি বলেন।
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: আমি ইতিমধ্যেই ‘ফাইভ ইয়ার্স ভিশন’ (পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা) নিয়ে ফেলেছি। দফতরের সচিব, ইঞ্জিনিয়র-সহ বিভিন্ন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড এই পরিকল্পনা তৈরি করেছি। কীভাবে কাজ এগোবে, কোথায় খামতি রয়েছে সবকিছু বিচার বিবেচনা করে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই এই পরিকল্পনা। পূর্ত দফতরের হাতে থাকা রাস্তা-সেতু সম্পর্কিত বিষয় নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বাড়িতে যাতে জল সত্যি সত্যি পৌঁছয় তার জন্যেও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন— এর আগের সরকার তো দাবি করেছিল, কল-জল দুটোই পৌঁছেছে।
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: (প্রশ্ন থামিয়ে) আগের সরকার শুধু মুখে কথা বলেছে। কিছু করেনি। একটা পাইপলাইন থেকে একাধিক লাইন করেছে। ফলে জল যাচ্ছে না। পরিকল্পনাবিহীন। কিন্তু আমরা প্রথম থেকেই পরিকল্পিতভাবেই এগোচ্ছি। জলের সোর্স থেকে সাধারণ মানুষের বাড়িতে পৌঁছনো পর্যন্ত আধুনিক ব্যবস্থা থাকবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আইকনিক পরিকল্পনা জল জীবন মিশন। তা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। যেখান থেকে জল পাইপ দিয়ে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে যাবে, তার প্রেসার কত তার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা থাকবে। যখন জল এসে যাবে তখন প্রতিটা বাড়িতে একটা মিটার থাকবে। কোনও পয়সা নেওয়ার জন্য নয়। আমরা দেখব কোথাও জল পরিকল্পনা বিহীনভাবে নষ্ট হচ্ছে কিনা। যে অঞ্চল থেকে এই ধরনের তথ্য আসবে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নেব। জল সবাই পাবেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অসাধারণ পরিকল্পনা জল জীবন মিশনকে সঠিকভাবে বাস্তবে রূপায়িত করতেই আমরা বদ্ধপরিকর।

প্রশ্ন— তৃণমূল সরকার অভিযোগ করেছিল, জল বাড়িতে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রকল্পে টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: কেন্দ্রীয় সরকার তো আগেই টাকা দিয়েছিল। মানুষের বাড়িতে যখন কল থেকে জল পড়বে সেটা দেখার পরেই কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বরাদ্দ দেবে রাজ্য সরকারকে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিপুল অর্থ আগেই দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। একটা ব্লক নেই যেখানটা ১০০ শতাংশ কল এবং জল দুটোই পৌঁছেছে। পরিকল্পনা বিহীনভাবে কাজ হয়েছে। যে পাইপ লাইন দিয়ে জল যাবে তার প্রেসার না দেখেই একাধিক বাড়িতে লাইন দেওয়া হয়েছে। ফলে জল পৌঁছয়নি। পশ্চিমবঙ্গ শস্য-শ্যামলা ভূমি। আমরা জল সংরক্ষণ না করতে পারলে কীভাবে হবে? সঠিক অর্থের চেক ড্যাম বানানো হয়নি। তার জন্য সঠিকভাবে জল দেওয়ার পদ্ধতি অবলম্বন হয়নি। প্রতিটা জেলাতেই ছোট ছোট নদী আছে। আমরা পরিকল্পনা করছি, নদী কেন্দ্রিকভাবে ড্যাম তৈরি। যাতে সঠিক অর্থে জল সংরক্ষিত থাকে।

প্রশ্ন— কাজ কতটা এগোচ্ছে, আপনি কি নিজে গিয়ে দেখবেন?
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: ইয়েস ইয়েস… আমি নিজে যাব। দফতরের আধিকারিকদের পাঠাবো। দফতরের একজন রাষ্ট্রমন্ত্রী রয়েছেন। তিনিও যাবেন। সমস্ত রিপোর্ট নেওয়ার পরে আমি পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। কাজের ব্যাপারে পরিকল্পনার ব্যাপারে কোনও গাফিলতি আমি বরদাস্ত করব না। আগের সরকার তো এই প্রকল্পের কোনও কিছুই ‘ফিনিশ’ দেখাতে পারেনি। তা হলে এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দেবে কেন পরবর্তী ক্ষেত্রে। আগেই টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু সঠিক অর্থে এরা (পূর্বতন সরকার) ব্যবহার করতে পারেনি।

প্রশ্ন— পশ্চিমবঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত একটা রাস্তার পরিকল্পনা আপনি করছেন। সেটা নিয়ে যদি কিছু বলেন।
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: পাহাড় থেকে গঙ্গাসাগর। রাস্তার পরিকল্পনা। অনেকটা বড় কাজ। সময় লাগবে। আমি ইতিমধ্যেই বিষয়টা নিয়ে রিপোর্ট চেয়েছি। অনেক জায়গায় রাস্তা রয়েছে। সেগুলোকে কীভাবে যুক্ত করা যাবে। কীভাবে কোথা দিয়ে রাস্তা এগোবে একটা রিপোর্ট তৈরি করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ির মন্ত্রকে দেব। উনি সময় দিলে বৈঠক করবো। এবং পরিকল্পনা অনুসারে কাজ এগোবে। তবে সময় লাগবে। অনেকটা বড় কাজ।

প্রশ্ন— এটা ঠিক। অত্যন্ত বড় পরিকল্পনা। রাস্তাঘাটের অবস্থা একেবারেই ভাল নয়। কী ভাবছেন?
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: পূর্ত দফতরের হাতে যে সমস্ত রাস্তাগুলো রয়েছে তার হাল কী তা নিয়ে রিপোর্ট চেয়েছি। অনেক অভিযোগ রয়েছে রাস্তা খারাপের। রিপোর্ট আসার পরেই রাস্তা ঠিক করার ব্যাপারে পদক্ষেপ অবশ্যই নেব।

প্রশ্ন— আগামী ২ জুলাই সরকারের প্রথম পর্যালোচনামূলক বৈঠক। আপনার দফতর থেকে কী পরিকল্পনা দেওয়া হচ্ছে?
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: আমি ইতিমধ্যেই দফতরের সচিব সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আমাদের রিপোর্ট একেবারেই তৈরি। আমরা মুখ্য সচিবের (মনোজ কুমার আগরওয়াল) কাছে আমাদের দফতরের রিপোর্ট পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের কী পরিকল্পনা, কীভাবে কাজ এগোবে সমস্ত কিছু রিপোর্টে উল্লেখ করেছি।

প্রশ্ন— বিশ্বকাপ ফুটবল দেখছেন?
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: আমি ফুটবল পাগল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও ম্যাচ আমি দেখতে পারিনি। কাজের খুব চাপ। দিনে আমি প্রায় ১৬ ঘণ্টা কাজ করছি। আমি ব্রাজিলের ফ্যান। অসাধারণ ফুটবল নৈপুণ্য রয়েছে ব্রাজিলের ফুটবলারদের মধ্যে। সুযোগ পেলে অবশ্যই দেখবো।

প্রশ্ন— অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। মানুষের জন্য কী বার্তা দেবেন?
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার: আপনাদেরও ধন্যবাদ। সঠিকভাবে পরিকল্পিত কাজের সংবাদ আপনারা তুলে ধরছেন এটা খুবই ভাল বিষয়। আপনাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানাবো, আপনারা দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করে আমাদের নিয়ে এসেছেন ক্ষমতায়। আমরা আপনাদের প্রতি দায়বদ্ধ। সুতরাং স্বচ্ছতা এবং সঠিক পরিকল্পনা করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এবং আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তত্ত্বাবধানে আমরা কাজ করছি এবং করব। আপনাদের সহযোগিতা চাই। বিশ্বাস রাখুন। পশ্চিমবঙ্গকে সত্যি সত্যি সোনার বাংলা করে তুলব আমরা।